ভোটের আগে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে দলগুলোর দৌড়ঝাপ। গঠিত হচ্ছে নতুন নতুন রাজনৈতিক জোট। এরইমধ্যে ৯টি বাম দল নিয়ে গঠিত হয়েছে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট। জাপা ও জেপির নেতৃত্বে এসেছে নতুন জোট 'জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট'।
তবে আলোচনায় এনসিপি, এবি পার্টি ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন নিয়ে গঠিত নতুন গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট। যদিও এই জোটের সাথে গণঅধিকার পরিষদ, আপ বাংলাদেশসহ ৮টি দলের যুক্ত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। তাই নতুন এই জোটের প্রভাব নিয়ে শুরুতেই প্রশ্ন উঠছে।
লেখক ও গবেষক আলতাফ পারভেজ বললেন, এই জোটটায় যারা যুক্ত আছে, তারা নির্বাচনকে সামনে রেখে জোট করেনি। এরা আসলে নির্বাচন পরবর্তী রাজনীতিকে সামনে রেখে করেছে। কিন্তু নির্বাচনে এনসিপির কিছু লক্ষ্য আছে। তারা যদি এখনও জোট গঠনের পরে বিএনপি বা জামায়াতের সাথে আসন সমঝোতা করার চেষ্টা করে তাহলে এই জোটটা ভেঙে যাবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ বলেন, প্রেশার গ্রুপ হিসেবে এনসিপির রুলটা দুর্বল হয়ে যাবে, যখন সে বড় কোনও দলের সাথে যোগ দেবে। তখন অন্য দলগুলো তাদেরকে সেটা এলাও না-ও করতে পারে।
এদিকে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ভোট টানতে নতুন করে আলোচনায় জাপা-জেপির নেতৃত্বাধীন ২০টি দল নিয়ে গঠিত জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট। যদিও এই জোটে নেই জি এম কাদেরের জাতীয় পার্টি। এ অবস্থায় এই জোটের নেতৃত্বে থাকা জাতীয় পার্টির একাংশের প্রতীক লাঙ্গল হবে কি না, এ নিয়ে প্রশ্ন আছে।
আলতাফ পারভেজ বলেন, জাতীয় পার্টির দুইটি ধারা এখন মাঠ পর্যায়ে আছে। একটি ধারা সরকারের পছন্দ নয় বা বড় দলগুলোর পছন্দ নয়। আরেকটি ধারা বড় দলগুলো বা সরকারের সমর্থন পাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। ছোট ছোট দলগুলো বা বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তির টিকে থাকার লড়াই; আবার একই সাথে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন শক্তি-ও বাংলাদেশে তাদের যে বন্ধু রাজনীতিবিদ আছে, তাদের টিকিয়ে রাখার জন্য এ ধরনের জোট গঠন করাচ্ছে।
সাব্বির আহমেদ বলেছেন, এখানে আওয়ামী লীগের ভোটটা হলো ওই অংশের সাথে (জি এম কাদের)।
রাজনীতির নানা সমীকরণ সামনে রেখে গঠিত নতুন দুটি জোট গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট ও জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের গুরুত্ব ভোটের প্রচারে থাকবে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সাব্বির আহমেদের মতে, ভোটের রাজনীতিতে তারা খুব একটা ফ্যাক্টর না-ও হতে পারে। তবে ভোটের প্রচারে তাদের একটা ভূমিকা থাকবে। নির্বাচনে যদি এক-দুইটা আসন পেয়ে ফেলে, তখন পরবর্তী কার্যক্রম বলে দেবে যে আসলে তারা কি খুব ম্যাটার করবে।
নতুন যত জোটই হোক, আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতে ভোটের মাঠে মূল লড়াই হবে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর। উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতির কারণে আসন সমঝোতায় ছোট দলগুলোকে ছাড় দেয়ার প্রবণতাও এতে কমবে, এমনটা বলছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন