ঢাকা | |

গ্যাসসংকটে বন্ধ হয়ে আছে যমুনা সার কারখানা, ২০ জেলার সার সংকটের আশঙ্কা

জামালপুরের সরিষাবাড়ীর তারাকান্দিতে অবস্থিত দেশের অন্যতম বৃহৎ দানাদার ইউরিয়া উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান যমুনা সার কারখানা দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস সংকটের
  • আপলোড সময় : ২৮ এপ্রিল ২০২৬, দুপুর ১০:১০ সময়
  • আপডেট সময় : ২৮ এপ্রিল ২০২৬, দুপুর ১০:১০ সময়
গ্যাসসংকটে বন্ধ হয়ে আছে যমুনা সার কারখানা, ২০ জেলার সার সংকটের আশঙ্কা

জামালপুরের সরিষাবাড়ীর তারাকান্দিতে অবস্থিত দেশের অন্যতম বৃহৎ দানাদার ইউরিয়া উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান যমুনা সার কারখানা দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস সংকটের কারণে বন্ধ থাকায় ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি ও সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কারখানাটি বন্ধ থাকায় প্রতিদিন প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা লোকসান হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। স্থানীয়দের মতে, বছরের অধিকাংশ সময়ই কারখানাটি গ্যাসের চাপ স্বল্পতা ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ থাকে। এতে শুধু উৎপাদনই ব্যাহত হচ্ছে না, বরং মূল্যবান যন্ত্রপাতিতে মরিচা ধরে স্থায়ী ক্ষতির ঝুঁকিও বাড়ছে। একই সঙ্গে আসন্ন মৌসুমে দেশে ইউরিয়া সারের সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।


কারখানা সূত্রে জানা যায়, ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত যমুনা সার কারখানা বাংলাদেশ রাসায়নিক শিল্প সংস্থার (বিসিআইসি) অধীনে পরিচালিত। উৎপাদন চালু রাখতে দৈনিক প্রায় ৪২–৪৩ পিএসআই গ্যাসের প্রয়োজন হয়। শুরুর দিকে দৈনিক ১,৭০০ টন ইউরিয়া উৎপাদন হলেও গ্যাস সংকট ও প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে তা পরে কমে ১,২০০ টনে নেমে আসে। জানা গেছে, কারখানাটি জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইলসহ উত্তরাঞ্চলের ২০টির বেশি জেলার প্রায় আড়াই হাজার ডিলারের মাধ্যমে সার সরবরাহ করে থাকে। ফলে উৎপাদন বন্ধ থাকলে পুরো অঞ্চলের কৃষি সরবরাহ চেইন সরাসরি প্রভাবিত হয়।


কারখানা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৫ জানুয়ারি প্রথমবার গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় উৎপাদন বন্ধ হয়। পরে দীর্ঘ ১৩ মাস বন্ধ থাকার পর ২০২৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি আবার উৎপাদন শুরু হলেও মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই যান্ত্রিক ত্রুটি ও গ্যাস সংকটে আবারও কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। সবশেষ চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে গ্যাস সংকটের কারণে কারখানাটি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্যাস সরবরাহ না থাকায় উৎপাদন পুনরায় শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না।


কারখানার শ্রমিকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় তারা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। ট্রাকসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি অকেজো হয়ে যাচ্ছে এবং পরিবার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। শ্রমিক শামসুল হক, আব্দুর রাজ্জাক, ছোবাহান আলী ও আফজাল হোসেন বলেন, “কারখানা প্রায়ই বন্ধ থাকে। আমাদের কোনো কাজ থাকে না। পরিবার নিয়ে কষ্টে দিন কাটাচ্ছি। দ্রুত কারখানাটি চালুর দাবি জানাই।”


এ বিষয়ে যমুনা সার কারখানার উপ প্রধান প্রকৌশলী (রসায়ন) মো. ফজলুল হক বলেন, “গ্যাস সংকটের কারণে ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। গ্যাস সরবরাহ পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে উৎপাদন শুরু করা সম্ভব। বর্তমানে কবে গ্যাস পাওয়া যাবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।”

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
শান্তর পর লিটনের ফিফটি, ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বাংলাদেশ

শান্তর পর লিটনের ফিফটি, ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বাংলাদেশ