ঢাকা | |
সংবাদ শিরোনাম :
আল্লু অর্জুনকে দ্রুত আদালতে হাজিরার নির্দেশ মেসির সেই ট্যাকল নিয়ে রেফারির বিরুদ্ধে ফিফার কাছে অভিযোগ আলজেরিয়ার বিশ্ব জুড়ে স্বস্তি, আছে ভয়ও সব মন্ত্রণালয়ে তিনি আজান দেন একামতও দেন, মাঝেমধ্যে সংসদে ফতোয়াও দেন অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে নকআউট নিশ্চিত করলো যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে জার্মানির সঙ্গে ব্রাজিলের কখন এবং কীভাবে দেখা হতে পারে! অবৈধ ইসরায়েলি বসতির সঙ্গে বাণিজ্য নিষিদ্ধ করতে নতুন আইনের উদ্যোগ নরওয়ের এবারের বিশ্বকাপের দ্রুততম গোল, এগিয়ে থেকে বিরতিতে মরক্কো তদন্ত পর্যায়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির কপি পাবে কি আসামিপক্ষ? হাইতির বিপক্ষে ব্রাজিলের একাদশে দুই পরিবর্তন

তানোরে শ্রমিকের অভাবে মাঠে পড়ে আছে পাকা ধান

রাজশাহীর তানোর উপজেলায় শ্রমিক সংকট, জ্বালানি ঘাটতি এবং ধানের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় মাঠেই পেকে পড়ে আছে বোরো
  • আপলোড সময় : ২৮ এপ্রিল ২০২৬, দুপুর ১০:১২ সময়
  • আপডেট সময় : ২৮ এপ্রিল ২০২৬, দুপুর ১০:১২ সময়
তানোরে শ্রমিকের অভাবে মাঠে পড়ে আছে পাকা ধান

রাজশাহীর তানোর উপজেলায় শ্রমিক সংকট, জ্বালানি ঘাটতি এবং ধানের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় মাঠেই পেকে পড়ে আছে বোরো ধান। একই সঙ্গে বৈরী আবহাওয়া ও কালবৈশাখীর আশঙ্কায় চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা। সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন বিলাঞ্চলে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ জমিতে পাকা ধান থাকলেও তা কাটার মতো শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে সময়মতো ধান ঘরে তুলতে না পেরে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। অনেকেই গ্রাম থেকে গ্রামে ঘুরে শ্রমিক খুঁজছেন।


কৃষকদের অভিযোগ, ধানের বাজারদর কমে যাওয়ায় শ্রমিকরা আসতে আগ্রহী হচ্ছেন না। বর্তমানে প্রতি মণ ধানের দাম (২৮ কেজিতে ৮০০–৯০০ টাকা এবং ৩৮ কেজিতে ১১০০–১১২০ টাকা) থাকলেও একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি প্রায় ৮০০ টাকা, ফলে উৎপাদন খরচই উঠছে না। স্থানীয় কৃষক সাহেব বলেন, “ধান পেকে গেছে কিন্তু কাটার লোক নেই। আগে শ্রমিকরা আগেই বুকিং দিতেন, এবার কেউ আসছে না। আবার ঝড়-বৃষ্টির ভয়ও আছে, তাই দুশ্চিন্তায় আছি।”


তালন্দ এলাকার কৃষক আমিনুল, আরশাদসহ অনেকে জানান, সার সংকট, জ্বালানি সংকট ও ধানের দাম পতনের কারণে পুরো কৃষি ব্যবস্থাই চাপে পড়েছে। শ্রমিক না পাওয়ায় অনেক জমির ধান মাটিতে নুয়ে পড়ছে, যা কাটতেও বেশি খরচ হচ্ছে। কৃষক শাকিল, মিলন, এন্তাজ ও নাদিম জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে আসা বহিরাগত শ্রমিকরাই মূল ভরসা ছিল, কিন্তু জ্বালানি সংকটের কারণে তারা আসতে পারছেন না। স্থানীয় শ্রমিক কম থাকায় চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না।


কৃষকদের হিসাব অনুযায়ী, বিঘাপ্রতি ধান কাটা-মাড়াইয়ে প্রায় ৭ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। রোপণ থেকে শুরু করে পুরো মৌসুমে মোট খরচ দাঁড়াচ্ছে প্রায় ২৩ হাজার টাকা। কিন্তু উৎপাদিত ধান বিক্রি করে গড়ে ২০ হাজার টাকার মতো আয় হওয়ায় প্রতি বিঘায় ৩–৪ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। তানোর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহম্মেদ বলেন, “যেভাবেই হোক দ্রুত ধান কেটে ঘরে তুলতে হবে। কারণ যেকোনো সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগ পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করতে পারে।”


বর্তমান পরিস্থিতিতে শ্রমিক, জ্বালানি ও বাজারমূল্যের এই সংকট কৃষকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
সংসদে বাংলা-ইংরেজি মিশিয়ে নারী এমপির বক্তব্য, সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল

সংসদে বাংলা-ইংরেজি মিশিয়ে নারী এমপির বক্তব্য, সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল