ঢাকা | |
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে ধোঁয়াশা ডাক্তার থেকে দূরে থাকতে প্রতিদিন এক কাপ ‘গ্রিন টি’ এক দশক পর ভারত থেকে আসতে যাওয়া নতুন রেল কোচে থাকছে যেসব সুবিধা খাগড়াছড়িতে পাঁচ বস্তা থেকে ২৪টি গুইসাপ উদ্ধার, নারী আটক কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৬৫, আহত ৩৫০০ গ্যাস সংকট নিরসনের দাবিতে জামালপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ চালকদের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট ডারউইনে টাইগার পেস অ্যাটাকে নাজেহাল স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া, নেই ৮ উইকেট মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির মহাসচিব পদে আলোচনায় যারা কঙ্গোতে ইবোলা ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী রূপ নেওয়ার পথে: ডব্লিউএইচওকঙ্গোতে ইবোলা ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী রূপ নেওয়ার পথে: ডব্লিউএইচও

বর্জ্য পরিশোধনাগারের অভাবে চামড়া রপ্তানিতে ধস

পরিবেশবান্ধব ট্যানারি ও কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে বাংলাদেশের চামড়া শিল্প আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা হারাচ্ছে। ২০১৬ সালে পুরান ঢাকা
  • আপলোড সময় : ৪ মে ২০২৬, সকাল ৯:৪৩ সময়
  • আপডেট সময় : ৪ মে ২০২৬, সকাল ৯:৪৩ সময়
বর্জ্য পরিশোধনাগারের অভাবে চামড়া রপ্তানিতে ধস

পরিবেশবান্ধব ট্যানারি ও কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে বাংলাদেশের চামড়া শিল্প আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা হারাচ্ছে। ২০১৬ সালে পুরান ঢাকা থেকে ট্যানারিগুলো সাভারের হেমায়েতপুরে স্থানান্তর করা হলেও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেখানে কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধনাগার (সিইটিপি) পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে ইউরোপসহ উন্নত বাজারে চামড়া রপ্তানি কার্যত কমে গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিবেশগত মানদণ্ড পূরণ করতে না পারায় একের পর এক কমপ্লায়েন্ট বিদেশি ক্রেতা বাংলাদেশ থেকে সরে গেছে। এতে বছরে প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য রপ্তানি আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দেশ। অন্যদিকে রপ্তানি কমে গেলেও দেশের ভেতরে চামড়া শিল্পের জন্য বছরে প্রায় ১৫০ মিলিয়ন ডলারের কাঁচামাল বিদেশ থেকে আমদানি করতে হচ্ছে। এতে বাণিজ্য ঘাটতি আরও বাড়ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, ২০১৬ সালের পর থেকেই রপ্তানি বাজারে বড় ধস নামে। বর্তমানে বাংলাদেশের প্রধান ক্রেতা দেশ হিসেবে চীন থাকলেও সেখানে নন-কমপ্লায়েন্ট বায়ারদের কাছে কম দামে চামড়া বিক্রি করতে হচ্ছে।


বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার অ্যাসোসিয়েশন-এর সভাপতি টিপু সুলতান জানান, ট্যানারি স্থানান্তরের পর সরকার সিইটিপি নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলেও দীর্ঘ সময়েও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এতে রপ্তানি বাজার ৪০০ মিলিয়ন ডলার থেকে কমে প্রায় ১২০ মিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো গড়ে তুলতে পারলে আবারও রপ্তানি বাজার বড় পরিসরে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। শিল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্ববাজারে কৃত্রিম চামড়ার ব্যবহার বাড়ায় প্রাকৃতিক চামড়ার চাহিদাও কিছুটা কমেছে। তবে পরিবেশগত সনদ না থাকায় বাংলাদেশ প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে।


লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপ-এর সনদ এবং আন্তর্জাতিক মান পূরণ না করায় ইউরোপীয় বাজারে প্রবেশ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে দেশের মাত্র কয়েকটি ট্যানারি এই সনদ অর্জন করেছে। ট্যানারি মালিকরা অভিযোগ করছেন, অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে বিদেশি ক্রেতা হারিয়ে যাচ্ছে এবং শিল্পটি সংকটে পড়ছে। এদিকে চট্টগ্রামে পর্যাপ্ত সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থা না থাকায় কোরবানির মৌসুমে বিপুল পরিমাণ কাঁচা চামড়া নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আড়তদাররা জানান, দাম নির্ধারণ ও ব্যাংক সুবিধা নিয়ে জটিলতার কারণে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।


সব মিলিয়ে পরিবেশবান্ধব ট্যানারি ব্যবস্থা বাস্তবায়ন না হলে বাংলাদেশের চামড়া শিল্পের বৈশ্বিক অবস্থান আরও দুর্বল হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
অবৈধ তিন হাজার ভারতীয়কে ফেরত পাঠানো হচ্ছে

অবৈধ তিন হাজার ভারতীয়কে ফেরত পাঠানো হচ্ছে