জামালপুরে গ্যাস সংকট নিরসন ও নতুন সিএনজি পাম্প স্থাপনের দাবিতে জামালপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকরা। বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে শুরু হওয়া এই অবরোধে মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী ও অন্যান্য যানবাহনের চালকেরা। চালকদের অভিযোগ, প্রায় দুই মাস ধরে জামালপুরে তীব্র গ্যাস সংকট চলছে। প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ টাকার গ্যাস প্রয়োজন হলেও তারা পাচ্ছেন মাত্র ৮০ থেকে ১০০ টাকার মতো। সেটিও পেতে ১১ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।
জামালপুর জেলায় বর্তমানে মাত্র একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশন থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে চালকদের ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে জামালপুর সদরে এসে গ্যাস নিতে হয়। কিন্তু দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে পাম্পে আসার পরও পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় তাদের আয়-রোজগার মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। চালকদের দাবি, জাবেদ ফিলিং স্টেশনে তাদের চাহিদা অনুযায়ী নিয়মিত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি জামালপুরে আরও একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশন স্থাপন করে দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকটের স্থায়ী সমাধান করতে হবে। দাবি বাস্তবায়ন না হলে অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা।
একজন সিএনজি চালক জানান, তিনি রাত দুইটা থেকে গ্যাসের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। পরে হঠাৎ জানতে পারেন পাম্পে গ্যাস নেই। তার অভিযোগ, এটি একদিনের সমস্যা নয়; প্রায়ই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। একটি পাম্প দিয়ে জেলার বিপুলসংখ্যক সিএনজি চালকের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয় বলেও দাবি করেন তিনি। এদিকে অবরোধের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুস সাকিব জানান, গ্যাস পাম্প ও গ্যাস সংকটের কারণে চালকরা মহাসড়ক অবরোধ করেছেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলছে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে।
অন্যদিকে জাবেদ ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আতিকুল রহমান বাবর চালকদের অভিযোগের বিষয়ে বলেন, পাম্প কর্তৃপক্ষের কোনো গাফিলতি নেই। সরবরাহ থাকলে যতক্ষণ গ্যাস পাওয়া যায়, ততক্ষণ চালকদের দেওয়া হয়। বর্তমানে সরবরাহ না থাকায় গ্যাস দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। সব মিলিয়ে গ্যাসের তীব্র সংকট, একটি মাত্র ফিলিং স্টেশনের ওপর নির্ভরতা এবং দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সিএনজি চালকদের মধ্যে। এখন দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং নতুন সিএনজি ফিলিং স্টেশন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া না হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন