কড়া রোদের মধ্যে সিলেট অঞ্চলের হাওর এলাকায় কিছু ভেজা ধান ও পচা খড় শুকাতে পারলেও কৃষকদের দুর্দশা কাটছে না। বহু কৃষকের স্তূপ করে রাখা ধান পচে খড়ের সঙ্গে মিশে জমাট বেঁধে গেছে, যা আর চালে রূপান্তর করা সম্ভব নয়। অন্যদিকে পানি কিছুটা কমলেও গভীর হাওর থেকে ধান কেটে ঘরে আনা এখনো কঠিন হয়ে পড়েছে। হাওরের ভেতরের গোপাট বা মাটির রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় কাদা জমিতে ট্রাক্টর চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এমনকি অনেক জায়গায় নৌপথও ব্যবহার করা যাচ্ছে না, ফলে কৃষকরা মাথায় করে ধান আনার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছেন।
এই পরিস্থিতি নিয়ে তাহিরপুর উপজেলার বিভিন্ন হাওরের চিত্র জাতীয় সংসদে তুলে ধরে দ্রুত প্রতিকার দাবি করেছেন সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত প্রায় ৯৮ হাজার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা তৈরি করা হয়েছে, যা এখনও হালনাগাদ করা হচ্ছে। শাল্লা, দিরাই, জামালগঞ্জ, মধ্যনগর ও সুনামগঞ্জ সদরসহ বিভিন্ন উপজেলায় জলাবদ্ধতা ও ফসলহানিতে কৃষকদের মধ্যে চরম হতাশা দেখা দিয়েছে। অনেকেই ঋণের চাপে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
দেখার হাওরের রৌয়ারপাড় এলাকার কৃষক ইনচান আলী জানান, তিনি প্রায় আট একর জমিতে বোরো চাষ করলেও এক কাঠা জমির ধানও কাটতে পারেননি। সব জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ঋণ করে চাষাবাদ করলেও এখন ফসল না পাওয়ায় তিনি চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। তিনি বলেন, ফসল পেলে শত শত মণ ধান পেতেন, যা দিয়ে ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব হতো। কিন্তু এখন পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে পাওনাদারদের চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, পরিবার নিয়ে কোথাও চলে যেতে ইচ্ছা করছে, কিন্তু সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়েও তিনি চিন্তিত।
একই গ্রামের আরেক কৃষক সাহেব আলী জানান, সাড়ে তিন লাখ টাকা ঋণ করে চাষ করলেও অধিকাংশ জমির ধান কাটা সম্ভব হয়নি। পরে তিনি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। তিনিও এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা ভাবছেন বলে জানান। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, গুয়ারছড়া, রৌয়ারপাড় ও হাছনপছন্দ এলাকায় অন্তত ২০ জন বর্গাচাষি একই ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন। এছাড়া গোখাদ্যের সংকট দেখা দেওয়ায় অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে কম দামে গবাদিপশু বিক্রি করে দিচ্ছেন। কৃষক ও স্থানীয়রা বলছেন, এ অবস্থা চলতে থাকলে কৃষি নির্ভর এই অঞ্চল আরও বড় সংকটে পড়বে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন