দেশজুড়ে বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সংখ্যা দ্রুত বাড়লেও সেগুলোর কার্যক্রম তদারকিতে বড় ধরনের সীমাবদ্ধতার মুখে রয়েছে স্বাস্থ্য প্রশাসন। সীমিত জনবল ও অবকাঠামোর কারণে নিয়মিত নজরদারি সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এর সুযোগে অনেক প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসাসেবার নামে অনিয়ম, অতিরিক্ত বিল আদায় এবং নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ বাড়ছে। স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের দাবি, কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজন না থাকলেও অস্ত্রোপচার, সিজার কিংবা নিবিড় পরিচর্যা সেবার নামে রোগীদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ আদায় করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে রোগীর স্বজনদের নানা জটিলতার কথা বলে অতিরিক্ত চিকিৎসা ব্যয়ের চাপ দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের চিকিৎসা খাতের ব্যাপক সম্প্রসারণের তুলনায় তদারকি ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়েনি। ফলে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে হাজার হাজার স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার প্রয়োজনীয় মানদণ্ড পূরণ না করেই কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কোথাও কোথাও অবকাঠামোগত দুর্বলতা, পুরোনো যন্ত্রপাতি, জনবল সংকট এবং সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এছাড়া রোগী সংগ্রহে দালালচক্রের সক্রিয়তার অভিযোগও রয়েছে। সম্প্রতি রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে কয়েক নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্যখাতের তদারকি ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তদন্তে অবকাঠামোগত ত্রুটি, চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার ঘাটতি এবং দায়িত্ব পালনে অবহেলার বিষয় উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে শতাধিক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং প্রায় ১৫ হাজারের বেশি ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ব্লাড ব্যাংক রয়েছে। সীমিত জনবল দিয়ে এত বড় খাত নিয়মিত মনিটর করা অত্যন্ত কঠিন। তিনি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান তদারকির জন্য পৃথক অধিদপ্তর গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন। স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. সুমন নাজমুলও বলেন, চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা খাতের ব্যাপক বিস্তারের তুলনায় প্রশাসনিক সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। অন্যথায় কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করা কঠিন হবে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. বেনজীর আহমেদের মতে, দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার পরিধি আগের তুলনায় বহুগুণ বৃদ্ধি পেলেও জনবল ও প্রশাসনিক কাঠামো সেই হারে সম্প্রসারিত হয়নি। ফলে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা রোধে নতুন কাঠামো ও শক্তিশালী তদারকি ব্যবস্থা গড়ে তোলা সময়ের দাবি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের মান নিশ্চিত করতে নিয়মিত পরিদর্শন, লাইসেন্স যাচাই, জবাবদিহি বৃদ্ধি এবং আধুনিক তদারকি ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন। অন্যথায় চিকিৎসাসেবার মান ও রোগীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়তে পারে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন