ঢাকা | |
সংবাদ শিরোনাম :
৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়: প্রধানমন্ত্রী এনসিপি থেকে সামান্তার পদত্যাগ, পক্ষে-বিপক্ষে নানা প্রতিক্রিয়া গাজীপুরে ভাঙচুর-নাশকতার অভিযোগে আসামি ৫ হাজারের বেশি গ্রেপ্তার ৭০, তৌফিকের মৃত্যুতে মামলা হয়নি টেকনাফে নিহত সেনাসদস্য তিতাসের দাফন ফরিদপুরে সম্পন্ন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে ইসরাইলের, সম্পর্ক পুনর্গঠনের চ্যালেঞ্জে আইজেনকট পুলিশের কাছ থেকে আসামি ছিনিয়ে নিলেন স্বজন ও স্থানীয়রা, আহত ৫ বেলিংহ্যামের ভাইসহ টুখেলের ২৫ সদস্যের দলে নতুন দুই মুখ গণহত্যায় জড়িতদের এ দেশে রাজনীতি করার অধিকার নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শীতের ছুটিতে ঘুরে আসতে পারেন দেশের জনপ্রিয় ১০ পর্যটনস্থানে বন্ধ হতে পারে টু-জি নেটওয়ার্ক, অচল হবে পুরোনো বাটন ফোন

অতীতে এত শিশুর মৃত্যু দেখেনি বাংলাদেশ

দেশে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ২০ জুন পর্যন্ত হামে
  • আপলোড সময় : ২১ জুন ২০২৬, সকাল ৯:৫০ সময়
  • আপডেট সময় : ২১ জুন ২০২৬, সকাল ৯:৫০ সময়
অতীতে এত শিশুর মৃত্যু দেখেনি বাংলাদেশ

দেশে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ২০ জুন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত ও উপসর্গজনিত জটিলতায় ৬৭৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৯৩ জন এবং হামের উপসর্গে প্রাণ হারিয়েছে আরও ৫৮৪ শিশু। একই সময়ে আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শিশুদের টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতি, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস, ভিটামিন-এ কর্মসূচির দুর্বলতা এবং অপুষ্টি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা সামষ্টিক রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ায় শিশুদের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়েছে।


বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, যেসব শিশু নিয়মিত টিকার আওতায় আসেনি কিংবা যাদের শরীরে পর্যাপ্ত প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হয়নি, তারা হামের সহজ শিকার হচ্ছে। পাশাপাশি অপুষ্টি ও অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে জটিলতা এবং মৃত্যুর হারও বাড়ছে। চিকিৎসকরা আরও জানান, অনেক ক্ষেত্রে আক্রান্ত শিশুদের সময়মতো হাসপাতালে না নেওয়ায় পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে ওঠে। শুরুতে সাধারণ জ্বর বা ফুসকুড়ি মনে করে বাসায় চিকিৎসা করানোর ফলে নিউমোনিয়াসহ নানা জটিলতা দেখা দেয়, যা মৃত্যুঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।


জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষকদের মতে, টিকার সরবরাহ ও কাভারেজে ঘাটতি, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার দুর্বলতা এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে অপুষ্টি বৃদ্ধিও বর্তমান পরিস্থিতির জন্য দায়ী। তারা দ্রুত বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ, টিকাদান জোরদার এবং আক্রান্তদের চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি স্বাস্থ্যব্যবস্থা, পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ, রোগী ব্যবস্থাপনার সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা এবং মৃত্যুর কারণ বিশ্লেষণের জন্য নিয়মিত পর্যালোচনা প্রয়োজন ছিল। এসব উদ্যোগ আরও আগে নেওয়া হলে প্রাণহানি কমানো সম্ভব হতে পারত।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১০ হাজার ৯৪৯ জন। এছাড়া সন্দেহভাজন আক্রান্তের সংখ্যা ৯১ হাজার ৭৮৯ জন। হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৭৫ হাজার ৯০২ জন, যাদের মধ্যে ৭১ হাজার ৯৭০ জন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত টিকাদান কর্মসূচি সম্প্রসারণ, অপুষ্টি মোকাবিলা এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করার বিকল্প নেই।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
সংঘাতের উত্তাপের মাঝে সন্তানকে আগলে মায়ের ছুটে চলা, আবেগঘন ছবি ভাইরাল

সংঘাতের উত্তাপের মাঝে সন্তানকে আগলে মায়ের ছুটে চলা, আবেগঘন ছবি ভাইরাল