দীর্ঘ এক যুগের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম জাতীয় বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেলের মূল বেতন কার্যকর করা হতে পারে। তবে বিভিন্ন ভাতা ও অতিরিক্ত সুবিধা পরবর্তী অর্থবছর থেকে চালুর সম্ভাবনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বাধীন উচ্চপর্যায়ের কমিটি ইতোমধ্যে বিভিন্ন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা করে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা তৈরি করেছে। সেটি অনুমোদনের জন্য শিগগিরই সরকারের উচ্চপর্যায়ে পাঠানো হবে। অনুমোদন মিললে জুলাই মাসের মধ্যেই এ বিষয়ে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।
নতুন বেতনকাঠামোতে সরকারি কর্মচারীদের জন্য উল্লেখযোগ্য বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব রাখা হয়েছে। আলোচনায় থাকা পরিকল্পনা অনুযায়ী, উচ্চ গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রায় ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধি পেতে পারেন। অন্যদিকে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন ১৩০ শতাংশ বা তারও বেশি বাড়ানোর প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে। সরকারি হিসাব ব্যবস্থায় জটিলতা এড়াতে মূল বেতন একবারেই কার্যকর করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে সামগ্রিক সুবিধা ও ভাতা ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে।
নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে উল্লেখযোগ্য অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই অর্থ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, পেনশনভোগী এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বেতনভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন সমন্বয়ে ব্যয় করা হবে বলে জানা গেছে। সবশেষ ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল কার্যকর হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ১১ বছর পর নতুন বেতনকাঠামো চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়িত হলে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দিতে সরকারি চাকরিজীবীরা অনেকটাই স্বস্তি পাবেন।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন