খুলনায় দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আরফান হোসেন নির্জনা হত্যা মামলায় নতুন মোড় এসেছে। নিহত কিশোরীর মা সীমা আক্তার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে হত্যাকাণ্ডের ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। শুক্রবার (১০ জুলাই) খুলনা মহানগর হাকিম আদালতে তার জবানবন্দি গ্রহণ করা হলে পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালত সূত্র জানায়, জবানবন্দিতে সীমা আক্তার বলেন, ঘটনার দিন বিকেলে মেয়ের সঙ্গে পারিবারিক বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তিনি মেয়েকে চড়-থাপ্পড় মারেন। এ সময় ঘরের ভেতরের চিৎকার শুনে বাবা আলীম হোসেন আকাশ সেখানে যান। পরিস্থিতি শান্ত না হওয়ায় তিনি একটি কাঠের লাকড়ি দিয়ে নির্জনার মাথায় আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে মরদেহ গোপন করার উদ্দেশ্যে ঘরে থাকা একটি ছেঁড়া লুঙ্গি ও প্লাস্টিকের বস্তায় মরদেহ ভরে মোটরসাইকেলে করে নগরীর নিরালা প্রান্তিকা আবাসিক এলাকায় ফেলে আসা হয় বলেও জবানবন্দিতে বলা হয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পরিবারের অমতে বিয়ে করাকে কেন্দ্র করে নির্জনার সঙ্গে পরিবারের বিরোধ চলছিল। কয়েক মাস আগে তিনি নিজের পছন্দের একজনকে বিয়ে করেছিলেন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন। ঘটনার দিনও তিনি শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার চেষ্টা করলে পরিবারের সদস্যরা তাকে আবার বাড়িতে নিয়ে আসেন। এরপর বিকেলে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
এদিকে ঘটনার পর থেকেই নিহতের বাবা আলীম হোসেন আকাশ পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্য জানাতে খুলনা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন