ঢাকা | |

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কারোপের হাওয়া

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কনীতিকে ঘিরে বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বাধ্যতামূলক শ্রমবিষয়ক আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন না করার
  • আপলোড সময় : ২৭ জুলাই ২০২৬, সকাল ৯:৩৬ সময়
  • আপডেট সময় : ২৭ জুলাই ২০২৬, সকাল ৯:৩৬ সময়
যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কারোপের হাওয়া

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কনীতিকে ঘিরে বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বাধ্যতামূলক শ্রমবিষয়ক আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন না করার অভিযোগে বাংলাদেশসহ বহু দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্লেষকদের মতে, এতে দেশের রপ্তানি, বৈদেশিক মুদ্রা আয় এবং কর্মসংস্থানের ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ সৃষ্টি হতে পারে। নতুন নীতির আওতায় বাংলাদেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হবে। ফলে আগের শুল্কের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মোট শুল্কহার আরও বেড়ে যাবে। একই সঙ্গে এ সিদ্ধান্ত বিশ্বের অধিকাংশ আমদানিকৃত পণ্যের ওপর প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কয়েকটি রপ্তানিকারক দেশের তুলনায় শুল্কের হার তুলনামূলক কম থাকায় মার্কিন বাজারে কিছু প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা বজায় থাকতে পারে। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, বাস্তবে অতিরিক্ত শুল্কের কারণে বাংলাদেশি পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাবে, যা ক্রেতাদের বিকল্প বাজারের দিকে ঝুঁকতে উৎসাহিত করতে পারে।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় একক রপ্তানি বাজার। দেশের তৈরি পোশাক খাত থেকেই রপ্তানি আয়ের বড় অংশ আসে এবং এই শিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত রয়েছেন লাখো শ্রমিক। ফলে রপ্তানি আদেশ কমে গেলে ছোট ও মাঝারি কারখানাগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। তাদের মতে, নতুন শুল্কের প্রভাব শুধু রপ্তানিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, বিনিময় হার, মূল্যস্ফীতি এবং সামগ্রিক অর্থনীতির ওপরও এর চাপ পড়তে পারে। একই সঙ্গে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানি সংকট এবং আমদানিনির্ভর কাঁচামালের কারণে শিল্পখাত আরও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারে।


বিশ্লেষকদের মতে, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশ যেসব বাণিজ্যিক সুবিধা হারানোর মুখে রয়েছে, নতুন শুল্কনীতি সেই চ্যালেঞ্জকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। পাশাপাশি রপ্তানি কমে গেলে কর্মসংস্থান, শ্রমবাজার এবং শিল্পখাতে অস্থিরতার ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাবে। তবে অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মত, পরিস্থিতি মোকাবিলায় নতুন বাজার সম্প্রসারণ, উৎপাদন ব্যয় কমানো, শ্রমমান উন্নয়ন, ব্যবসাবান্ধব নীতি গ্রহণ এবং কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা জরুরি। সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেওয়া গেলে সম্ভাব্য ক্ষতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হতে পারে।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
নভেম্বরেই মুখোমুখি হতে পারে আর্জেন্টিনা ও স্পেন

নভেম্বরেই মুখোমুখি হতে পারে আর্জেন্টিনা ও স্পেন