ঢাকা | |
সংবাদ শিরোনাম :
এলজিআরডি মন্ত্রী হলেন ড. আবদুল মঈন খান পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন সাচিং প্রু জেরী তথ্যমন্ত্রী হলেন ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেলেন শামীম কায়সার লিংকন তথ্যমন্ত্রী থেকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হলেন জহির উদ্দিন স্বপন শামীম কায়সারকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী করায় প্রতিবাদ ও উদ্বেগ জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম ক্ষতিকর কনটেন্টের বিস্তার শিশু-কিশোরদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে: আইসিটি মন্ত্রী শনিবার যেসব এলাকায় ১১ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না প্রয়োজন হলে আরও ১০০ বার ইরানে হামলা করতাম: ট্রাম্প এখন আমি বলতে পারব, হলিউড স্টাইলে কাজ করেছি: জায়েদ খান

সীমান্ত বাহিনীকে আরো জনবান্ধব করার অভিপ্রায়

দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার ও কৌশলগত সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগের মধ্যেই হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের দুর্গম পাহাড়ি
  • আপলোড সময় : ২২ আগস্ট ২০২৬, সকাল ৯:৩৮ সময়
  • আপডেট সময় : ২২ আগস্ট ২০২৬, সকাল ৯:৩৮ সময়
সীমান্ত বাহিনীকে আরো জনবান্ধব করার অভিপ্রায়

দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার ও কৌশলগত সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগের মধ্যেই হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ। সাতছড়ি রিজার্ভ ফরেস্টের গভীর জঙ্গলে মাটির নিচে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল এসব অস্ত্র। সীমান্ত পিলার ১৯৭৮ থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অভিযান চালিয়ে ছয়টি পিস্তল, সাতটি ম্যাগাজিন ও ২২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তানজিলুর রহমান জানিয়েছেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদের বিস্তার ঠেকানো এবং সীমান্ত এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিজিবি তৎপর রয়েছে।


বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, গত তিন মাসে সাতছড়ি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের দুর্গম সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ৪১ লাখ টাকা মূল্যের ২৩৮ কেজি ভারতীয় গাঁজা, ২ হাজার ৫৮৫টি ইয়াবা, ৫৯ বোতল মদ ও ২১টি গরু আটক করা হয়েছে। সাতছড়ি এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই অস্ত্র উদ্ধারের কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে রয়েছে। ২০১৪ সাল থেকে সেখানে একাধিক অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারী অস্ত্র, রকেট, মেশিনগান, রাইফেল, পিস্তলের গুলি ও অন্যান্য গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।


২০১৪ সালের কয়েক দফা অভিযানে শত শত রকেট, রকেট চার্জার, রকেট উৎক্ষেপণযন্ত্র, মেশিনগান, স্বয়ংক্রিয় রাইফেল এবং হাজার হাজার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। একই বছরের পরবর্তী অভিযানে আরও মেশিনগান, ম্যাগাজিন, বিস্ফোরক ও বিপুলসংখ্যক গুলি উদ্ধার হয়। এরপর ২০১৮ সালে সাতছড়ি থেকে ৪০ মিলিমিটারের ১০টি ট্যাংকবিধ্বংসী রকেট, ২০১৯ সালে রকেট উৎক্ষেপণযন্ত্রের খোলসসহ বিভিন্ন বিস্ফোরক এবং ২০২১ সালে ট্যাংকবিধ্বংসী রকেট উৎক্ষেপণযন্ত্র উদ্ধার করা হয়। একই বছর আরও রকেট, বিস্ফোরক ও বিপুল পরিমাণ গুলি উদ্ধারের ঘটনা ঘটে।


চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত বিজিবির সরাইল অঞ্চলের আওতাধীন বিভিন্ন সীমান্তে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ চোরাচালানি পণ্য ও মাদক জব্দ করা হয়েছে। উখিয়া সীমান্ত থেকেও মালিকবিহীন বিপুলসংখ্যক ইয়াবা উদ্ধারের খবর পাওয়া গেছে। এদিকে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করতে কক্সবাজারের রামু সেনানিবাসকে আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ সামরিক স্থাপনা হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগের খবরও সামনে এসেছে। এর মাধ্যমে বহিঃশত্রুর আক্রমণ মোকাবিলা, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং কৌশলগত সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে।


অন্যদিকে বিজিবির সক্ষমতা বাড়াতেও নেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন উদ্যোগ। জল ও স্থলপথের পাশাপাশি আকাশপথে টহল ও নজরদারি সক্ষমতা বাড়াতে বাহিনীতে হেলিকপ্টার সংযোজন করা হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি, নদীবেষ্টিত ও সীমান্তবর্তী এলাকায় আধুনিক নজরদারি সরঞ্জাম ব্যবহার করে গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। ‘বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ভিশন-২০৪১’-এর আওতায় আধুনিক অস্ত্র, প্রযুক্তি ও উন্নত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি যুক্ত করার উদ্যোগ চলছে। দেশের দীর্ঘ সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি চোরাচালান, মাদক ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে বাহিনীটির দায়িত্বও বাড়ছে।


১৭৯৫ সালের ২৯ জুন রামগড় স্থানীয় ব্যাটালিয়ন হিসেবে যাত্রা শুরু করা এই বাহিনী সময়ের সঙ্গে বিভিন্ন নাম ও কাঠামোর পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে আজকের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে রূপ নিয়েছে। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বাহিনীর নাম হয় বাংলাদেশ রাইফেলস। পরে আইন সংশোধনের মাধ্যমে ২০১০-১১ সালে বর্তমান নাম বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ রাখা হয়। মহান মুক্তিযুদ্ধেও এ বাহিনীর অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ ঢাকার পিলখানায় তৎকালীন ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলসের সদর দপ্তরে পাকিস্তানি বাহিনীর নজরদারি উপেক্ষা করে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন দেশপ্রেমিক সদস্যরা। ২৫ মার্চের কালরাতের পর পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম দিকের সশস্ত্র প্রতিরোধেও তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।


নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধে এ বাহিনীর ৮১৭ জন সদস্য শহীদ হন। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এ বাহিনীর সদস্যরা দুইটি বীরশ্রেষ্ঠ, আটটি বীরউত্তম, ৩২টি বীরবিক্রম ও ৭৮টি বীরপ্রতীকসহ মোট ১১৯টি রাষ্ট্রীয় বীরত্বসূচক খেতাব অর্জন করেন। বর্তমানে সীমান্ত পাহারার পাশাপাশি দুর্গম অঞ্চলের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কাজও করছে বিজিবি। পাহাড়ি এলাকায় শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার চেষ্টা চলছে।


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও বিজিবিকে আরও আধুনিক, দক্ষ, সময়োপযোগী ও জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষ জনবলের সমন্বয়ে বাহিনীটির সক্ষমতা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
হরমুজকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার ঘোষণা ট্রাম্পের, বাস্তবে কি সম্ভব?

হরমুজকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার ঘোষণা ট্রাম্পের, বাস্তবে কি সম্ভব?