ইরানিরা সম্ভবত মনে করবে ট্রাম্প ‘পিছু হটেছেন’, কারণ ‘সংঘাত আরও বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি’ ছিল
মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো রস হ্যারিসন বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সুস্পষ্ট কৌশল চিহ্নিত করা এখনও কঠিন। কারণ, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার আসন্ন সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিলেও শেষ পর্যন্ত তা থেকে সরে এসেছেন।
হ্যারিসন আল জাজিরাকে বলেন, ট্রাম্প কেন ইরানের ওপর পরিকল্পিত হামলা স্থগিত করলেন, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানে নিযুক্ত সমকক্ষদের সঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির টেলিফোন আলাপের সময় ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে কী ধরনের আশ্বাস দিয়েছিল, সেটিও এখনও স্পষ্ট নয়।
তিনি বলেন, “ইরানের দৃষ্টিকোণ থেকে আমার ধারণা, তারা মনে করবে ডোনাল্ড ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত পিছু হটেছেন, কারণ সংঘাত আরও বড় আকার ধারণ করার সম্ভাবনা ছিল।”
হ্যারিসনের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যদি হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়ে একটি সুস্পষ্ট সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারে, তাহলে সাম্প্রতিক এই ঘোষণা প্রকৃত অর্থে উত্তেজনা প্রশমনের ইঙ্গিত দেবে না।
তিনি বলেন, “গত কয়েক সপ্তাহে যেভাবে এই সংঘাতের বিস্তার ঘটেছে, তার মূল কারণ ছিল জুন মাসে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারকের অস্পষ্টতা। আমার ধারণা, ওই সমঝোতার পরবর্তী সময়ে ইরান অনুচ্ছেদ ৫-এর ব্যাখ্যা এমনভাবে করেছিল যে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব তাদের হাতে থাকবে এবং তারাই প্রণালিটি উন্মুক্ত রাখার দায়িত্ব পালন করবে।”
তিনি আরও বলেন, “এরপর যুক্তরাষ্ট্র ওমানের সঙ্গে কাজ করে জাহাজগুলোকে দক্ষিণ উপকূল ঘেঁষে চলাচলের ব্যবস্থা করে, যা ইরানের কার্যকর নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল। মূলত এটিই নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধির সূচনা করে।”
হ্যারিসন বলেন, “তাই হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করা এবং অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়ে যদি কোনো সুস্পষ্ট সমঝোতা না হয়, তাহলে বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হবে না। আমরা যে ঘোষণা দেখলাম, সেটি কেবল সাময়িক বিরতি হিসেবেই বিবেচিত হবে।”
বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন