সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৬ বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরের দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আগুনে পুড়ে যাওয়ায় নিহতদের মরদেহ শনাক্ত করতে জটিলতা দেখা দিয়েছে।
রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের বরাত দিয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে ১৬ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা এখনো চূড়ান্তভাবে জানা যায়নি। তদন্ত ও পরিচয় শনাক্তের পর মৃত্যুর সংখ্যা সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
নিহতদের মধ্যে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার অন্তত ১০ জন এবং নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার তিনজন রয়েছেন বলে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে তথ্য পাওয়া গেছে।
আত্রাই উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে গন্ডগোহালী গ্রামের মহুন প্রামাণিক (৪২), সুমন প্রামাণিক, রুবেল হোসেন (৩০) ও কলি প্রামাণিক (৩৫); বিশা গ্রামের সাগর (৩১) ও মজিদুল (৩৪); উদনপৈ গ্রামের ফরিদ শেখ (৩২); ডুবাই গ্রামের সুমন (৩৫) ও হাসিবুল হাসান (২৭) এবং পারকাসুন্দা গ্রামের আবদুল জলিল (৩৮) রয়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, প্রথমে সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও পরে আরও কয়েকজনের মৃত্যুর তথ্য আসে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার খাজুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসেন জানিয়েছেন, ওই অগ্নিকাণ্ডে তার ইউনিয়নের তিন বাসিন্দার মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন—খাজুরা শ্রীপুরপাড়া এলাকার গোলাম রাব্বানীর ছেলে সাব্বির হোসেন সোহাগ, দিঘীর পাড় এলাকার জাকের হোসেনের ছেলে শামীম হোসেন এবং মহিষডাঙ্গা এলাকার আসলাম আলীর ছেলে রবিউল আওয়াল হৃদয়।
স্থানীয় প্রশাসন ও নিহতদের স্বজনদের কাছ থেকে পাওয়া প্রাথমিক তথ্যে জানা যায়, রোববার দুপুরের দিকে কারখানাটিতে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়লে সেখানে থাকা শ্রমিকদের অনেকে বের হতে পারেননি। এতে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম জানিয়েছেন, সৌদি দূতাবাসের কাউন্সেলর (শ্রম) মুহাম্মদ রেজায়ে রাব্বীর সঙ্গে যোগাযোগ করে দুর্ঘটনার বিষয়ে তথ্য নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, নিহতদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের নাগরিক থাকতে পারেন। তবে এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
মরদেহ দেশে ফেরাতে উদ্যোগ
ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকদের মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং স্বজনদের প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও দুর্ঘটনাস্থলের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্ত ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করার পর মরদেহ দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হবে।
এ ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে সরকারি সহায়তা ও সম্ভাব্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন