ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে ক্ষমতা ত্যাগ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশ ছাড়ার সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে তার অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী সালমান এফ রহমান যেতে পারেননি। ঘটনাটির দুই বছর পর সেদিনের ঘটনার নতুন কিছু তথ্য বিভিন্ন সূত্রে সামনে এসেছে।
একাধিক সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, দেশত্যাগের প্রস্তুতির সময় শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানা সীমিত সংখ্যক ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিকে সঙ্গে নিতে চেয়েছিলেন। এ উদ্দেশ্যে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সহযোগীর সঙ্গে যোগাযোগও করা হয়। তাদের মধ্যে ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল তারিক আহমেদ সিদ্দিক এবং সাবেক শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।
গণভবনে উপস্থিত ছিলেন—এমন একটি সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে বহর রওনা হওয়ার আগে সালমান এফ রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি নির্ধারিত সময়ে পৌঁছাতে পারেননি।
পরবর্তীতে প্রকাশিত একটি অডিও রেকর্ডিংয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানাকে উদ্বিগ্ন কণ্ঠে সালমান এফ রহমানকে দ্রুত বেরিয়ে আসার আহ্বান জানাতে শোনা যায়। একটি কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, ওই সময় তিনি একটি প্রভাবশালী পশ্চিমা দেশের ভারপ্রাপ্ত দূতের সঙ্গে বৈঠকে ব্যস্ত ছিলেন। সরকারের পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ের শেষ মুহূর্তের সেই প্রচেষ্টার কারণে তিনি গুরুত্বপূর্ণ সময় হারান এবং পুরোনো তেজগাঁও বিমানবন্দরে পৌঁছাতে ব্যর্থ হন।
সূত্রগুলো আরও জানায়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তার জন্য একটি ব্যক্তিগত উড়োজাহাজ প্রস্তুত থাকলেও নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে সেখানে যাওয়া সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা আর অপেক্ষা না করে দেশত্যাগ করেন।
উল্লেখ্য, সালমান এফ রহমান দীর্ঘদিন শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সরকারে থাকাকালে তিনি মন্ত্রীর মর্যাদায় দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকেও প্রতিনিধিত্ব করেছেন। সরকার পরিবর্তনের পর তাকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান শুরু করে। পরে নৌপথে দেশ ছাড়ার চেষ্টা করার সময় রাজধানীর সদরঘাট এলাকা থেকে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং সালমান এফ রহমানকে আটক করা হয়।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন