প্রায় এক দশক পর বাংলাদেশের জন্য আবারও নতুন যাত্রীবাহী রেল কোচ তৈরি করেছে ভারত। বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য তৈরি প্রথম ধাপের ১৯টি লিংক হফম্যান বুশ বা এলএইচবি ব্রডগেজ কোচ ভারতের রেল কোচ ফ্যাক্টরি থেকে বের করা হয়েছে। যাত্রীদের আরাম, নিরাপত্তা এবং বাংলাদেশের রেল পরিচালনার বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে এসব কোচে রাখা হয়েছে বেশ কিছু বিশেষ সুবিধা। বাংলাদেশ রেলওয়ের সঙ্গে ভারতের রেল কোচ ফ্যাক্টরির সহযোগিতা শুরু হয় ২০১৫-১৬ সালে। ওই সময় বাংলাদেশকে ১২০টি এলএইচবি ব্রডগেজ কোচ সরবরাহ করা হয়েছিল। পরে ২০২৪ সালে রাইটসের মাধ্যমে বাংলাদেশ রেলওয়ে আরও ২০০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ তৈরির কার্যাদেশ দেয়। সাত ধরনের কোচের মধ্যে প্রথম রেকে রয়েছে তিনটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্লিপার কোচ, তিনটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত চেয়ার কার, ১১টি নন-এসি চেয়ার কার এবং দুটি পাওয়ার কার।
নতুন কোচগুলোতে যাত্রীদের জন্য বিশেষভাবে নকশা করা রিক্লাইনিং আসন রাখা হয়েছে। রয়েছে স্টেইনলেস স্টিলের হাতল ও পায়ের বিশ্রামের ব্যবস্থা। পাশাপাশি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কোচে ফ্যান, সমন্বিত সিসিটিভি নজরদারি, অ্যালার্ম ব্যবস্থা, আংশিক খোলা যায় এমন জানালা, শিশুদের যত্নের জন্য আলাদা কক্ষ এবং নামাজের জন্য পৃথক কক্ষও রাখা হয়েছে। বাংলাদেশের বাস্তবতা বিবেচনায় কোচের ছাদও শক্তিশালী করা হয়েছে। অতিরিক্ত যাত্রী ছাদে ওঠার মতো পরিস্থিতিতে বাড়তি ভার সহ্য করার বিষয়টিও নকশায় বিবেচনা করা হয়েছে।
নিরাপত্তার দিক থেকেও রয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। দুর্ঘটনার সময় কোচের কাঠামোগত ক্ষতি কমাতে ব্যবহার করা হয়েছে ক্র্যাশওর্দি নকশা। এই নকশা ইউরোপীয় নিরাপত্তা মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের একটি হলো বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা। বাংলাদেশের রেলওয়ের বিদ্যুৎ অবকাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে এসব কোচে ৪১৫ ভোল্টের বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যেখানে ভারতীয় রেলের প্রচলিত এলএইচবি কোচে সাধারণত ৭৫০ ভোল্টের ব্যবস্থা ব্যবহৃত হয়।
অর্থাৎ, নতুন এই কোচগুলো শুধু ভারতের প্রচলিত নকশার অনুকরণ নয়। বাংলাদেশের রেলপথের বাস্তবতা, যাত্রীদের আরাম, নিরাপত্তা এবং স্থানীয় বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার কথা বিবেচনা করেই কোচগুলোতে আনা হয়েছে বেশ কিছু পরিবর্তন। ফলে নতুন এই রেল কোচগুলো বাংলাদেশের যাত্রীসেবায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন