নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের পর অন্তঃসত্ত্বা করার অভিযোগে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার দ্বিতীয় আসামি আবু মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে মামলার প্রধান আসামি বকুল মিয়া এখনো পলাতক রয়েছেন। মামলার এজাহার ও পরিবারের সদস্যদের সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় ২০২২ সালের ২০ নভেম্বর বকুল মিয়া তাকে একটি বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করেন এবং গোপনে ভিডিও ধারণ করেন। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাকে বিভিন্ন সময় ব্ল্যাকমেইল ও ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের মার্চ-এপ্রিলের দিকে বকুলের এক সহযোগীর মাধ্যমে ভুক্তভোগীকে একটি ভাড়া বাসায় নেওয়া হয়। সেখানে বকুলের নেতৃত্বে একাধিক ব্যক্তি তাকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করেন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্তও নির্যাতন চলতে থাকে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। গত ১ আগস্ট একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি পরিবারের নজরে আসে। পরে গত ১৮ আগস্ট একটি বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে পরীক্ষা করানো হলে ভুক্তভোগী ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে নিশ্চিত হন পরিবারের সদস্যরা।
এরপর মঙ্গলবার রাতে ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে বকুল মিয়াসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে কেন্দুয়া থানায় মামলা করেন। মামলা দায়েরের পর রাতেই অভিযান চালিয়ে দ্বিতীয় আসামি আবু মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন জানিয়েছেন, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। অভিযুক্ত বকুল মিয়ার বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম জানান, প্রধান আসামিসহ মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন