ঢাকা | |
সংবাদ শিরোনাম :
দিস ইজ অ্যাবসার্ড—চিফ হুইপকে ডেপুটি স্পিকার ভিসা নিয়ে বড় সুখবর, এক পারমিটেই ঘোরা যাবে মধ্যপ্রাচ্যের ৬ দেশ শনিবার থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ছে বেকারি পণ্যের দাম অতিরিক্ত টাকা আদায়, মেয়াদোত্তীর্ণ রিএজেন্ট ব্যবহার; কক্সবাজারে দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা মিথ্যা বললে শরীরে যেসব ক্ষতি হতে পারে ফেইনুর্ডকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ শুরু করল বার্সেলোনা সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে তৃতীয় দিনে গ্রাহকদের ৩৮১ কোটি টাকা উত্তোলন যমুনা সেতুতে দুর্ঘটনা, উত্তরবঙ্গমুখী লেনে যান চলাচল বন্ধ ফিলিস্তিনের পক্ষে কথা বলায় কাজ হারাচ্ছেন অস্কারজয়ী অভিনেত্রী কাগজে মজুত থাকলেও মাঠে সারের হাহাকার: সংসদে শফিকুল ইসলাম মাসুদ

চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়া যাবে না: আনু মুহাম্মদ

চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়া হলে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও জাতীয় স্বার্থ ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে
  • আপলোড সময় : ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:৫৭ সময়
  • আপডেট সময় : ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:৫৭ সময়
চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়া যাবে না: আনু মুহাম্মদ

চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়া হলে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও জাতীয় স্বার্থ ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘চট্টগ্রাম বন্দর ও জাতীয় স্বার্থ’ শীর্ষক এক আলোচনাসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। মিডিয়া অ্যান্ড সিভিল রাইটস সোসাইটি আয়োজিত সভায় বন্দরের ব্যবস্থাপনা, বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া, সক্ষমতা বৃদ্ধি, জাতীয় স্বার্থ ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা করেন বক্তারা।


অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নতুন কোনো বিষয় নয়। অতীতেও এ ধরনের চেষ্টা হয়েছে। সরকার পরিবর্তন হলেও বাস্তব কর্মকাণ্ডে তেমন পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। একই ধরনের উদ্যোগ বারবার সামনে আসছে এবং এর সঙ্গে অস্বচ্ছতা ও গোপনীয়তাও বজায় রাখা হচ্ছে। বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার যে উদ্যোগ চলছে, তার সমালোচনা করে তিনি বলেন, বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজন থাকলে সরকারকে যুক্তি ও তথ্যের মাধ্যমে বিষয়টি জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। কিন্তু বিভিন্ন প্রশ্নের বিশ্বাসযোগ্য উত্তর পাওয়া যাচ্ছে না এবং চুক্তির বিষয়গুলোও জনসমক্ষে প্রকাশ করা হচ্ছে না।


তিনি আরও বলেন, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান। এতে রাষ্ট্রের বিপুল বিনিয়োগ রয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটির হাতে উদ্বৃত্ত অর্থও রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বন্দরের মাসুল বাড়ানোর যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্ব তুলে ধরে আনু মুহাম্মদ বলেন, দেশের মোট আমদানি-রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ এই বন্দরের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। তাই বাংলাদেশের অর্থনীতির ‘হৃদপিণ্ড’ হিসেবে বিবেচিত এই বন্দরকে অন্যের হাতে তুলে দেওয়ার বিষয়টি সাধারণ কোনো বন্দরের সঙ্গে তুলনা করা যায় না।


তার মতে, বন্দরের দক্ষতা বাড়াতে হলে কাস্টমস ব্যবস্থার সংস্কার, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং দেশের নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দিতে হবে। বিদেশি কোম্পানিকে দায়িত্ব দেওয়ার সঙ্গে এসব সমস্যার সমাধানের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আলোচনাসভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষক মোশাহিদা সুলতানা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির নামে বিদেশি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের হাতে টার্মিনাল দেওয়ার আগে দেশের বর্তমান সক্ষমতা ও ভবিষ্যৎ চাহিদা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।


সভায় বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নয়ন ও সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি হলেও যেকোনো সিদ্ধান্তে জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল দেওয়ার আগে চুক্তির সব শর্ত, সম্ভাব্য লাভ-ক্ষতি এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব জনগণের সামনে প্রকাশ করার দাবিও জানান তারা।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
এলএনজি টার্মিনাল-২ চুক্তি পুনর্বহালের দাবি সামিটের

এলএনজি টার্মিনাল-২ চুক্তি পুনর্বহালের দাবি সামিটের