রাজধানীর যানজট কমাতে এবার বড় ধরনের সমন্বিত উদ্যোগের কথা জানাল সরকার। শুধু রাস্তা খুঁড়ে উন্নয়নকাজ করলেই হবে না—এক সংস্থার কাজ শেষ হওয়ার পর একই জায়গায় আরেক সংস্থা যেন আবার রাস্তা খুঁড়ে না বসে, সেটি নিশ্চিত করতে নেওয়া হচ্ছে নতুন ব্যবস্থা। এ জন্য প্রতি ১৫ দিন পরপর সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা ও অংশীজনকে নিয়ে সমন্বয় সভা করার কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। মঙ্গলবার সচিবালয়ে মেগা প্রকল্পের নির্মাণকাজের কারণে সৃষ্ট যানজট নিয়ে সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, রাজধানীতে চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে প্রতিটি সংস্থার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা সমন্বয়ক নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ তালিকায় রয়েছে মেট্রোরেল, সড়ক বিভাগ, সেতু কর্তৃপক্ষ, সিটি করপোরেশন, ওয়াসা, বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। লক্ষ্য একটাই—একই সড়কে বারবার খোঁড়াখুঁড়ি বন্ধ করে নির্মাণকাজের কারণে মানুষের দুর্ভোগ ও যানজট কমানো। এদিকে রাজধানীতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা চালু হয়েছে বলেও জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তার দাবি, এর মাধ্যমে যান চলাচলে দৃশ্যমান শৃঙ্খলা ফিরছে।
রাজধানীর বড় বাসস্ট্যান্ডগুলো নিয়েও নেওয়া হচ্ছে নতুন পরিকল্পনা। গাবতলী, মহাখালী ও ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ড শহরের বাইরে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এরই মধ্যে জমি অধিগ্রহণ ও পরিকল্পনার কাজ চলছে বলে জানান তিনি। যানজটের আরেকটি বড় কারণ হিসেবে ব্যাটারিচালিত রিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচলের কথা উল্লেখ করেছেন মন্ত্রী। এসব যানকে নীতিমালার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে হঠাৎ করে কাউকে বেকার না করে ধাপে ধাপে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে গড়ে ওঠা চার্জিং পয়েন্টের বিরুদ্ধেও অভিযান চলবে।
গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল প্রসঙ্গেও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, ওই কর্মসূচি নিয়ে গোয়েন্দা তথ্য ছিল। তবে শুক্রবার জুমার নামাজকে কেন্দ্র করে সেখানে এমন কর্মকাণ্ড ঘটতে পারে—পুলিশ হয়তো তা আগে থেকে ধারণা করতে পারেনি। পরে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও মন্ত্রী বলেন, নির্বাচন কমিশনের দেওয়া সম্ভাব্য সূচি এখনো চূড়ান্ত নয়। ১৭ সেপ্টেম্বর আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সংশ্লিষ্টদের মতামত নেওয়ার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
এর পাশাপাশি সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশের জন্য পূর্ণাঙ্গ সাইবার নিরাপত্তা ইউনিট গঠনের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অতিরিক্ত মহাপরিদর্শকের নেতৃত্বে এই ইউনিট গঠনের কথা ভাবা হচ্ছে। পুলিশ বাহিনীতে থাকা প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি ও কম্পিউটারবিজ্ঞানে দক্ষ সদস্যদের এই ইউনিটে কাজে লাগানো হবে। পুলিশের দক্ষতা বাড়াতে দেশি-বিদেশি প্রশিক্ষণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে বিদেশি প্রশিক্ষক এনে আধুনিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
অর্থাৎ রাজধানীর যানজট নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে ব্যাটারিচালিত রিকশা, উন্নয়নকাজের সমন্বয় এবং পুলিশের সাইবার সক্ষমতা—একাধিক বিষয়ে একই দিনে সরকারের পরিকল্পনার কথা সামনে এসেছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন