ঢাকা | |

সিডনির পথে অন্য এক জেমস

মঞ্চে হাজারো দর্শক, হাতে গিটার—এভাবেই সাধারণত দেখা যায় নগরবাউল জেমসকে। কিন্তু সিডনিয়ের ব্যস্ত রাস্তায় দেখা গেল সম্পূর্ণ অন্য
  • আপলোড সময় : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:৩৯ সময়
  • আপডেট সময় : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:৩৯ সময়
সিডনির পথে অন্য এক জেমস

মঞ্চে হাজারো দর্শক, হাতে গিটার—এভাবেই সাধারণত দেখা যায় নগরবাউল জেমসকে। কিন্তু সিডনিয়ের ব্যস্ত রাস্তায় দেখা গেল সম্পূর্ণ অন্য এক জেমসকে। কোনো মঞ্চ নেই, নেই ক্যামেরার ঝলকানি কিংবা তারকাসুলভ আয়োজন। ফুটপাতের পাশে এক অচেনা তরুণের বেহালার সুর শুনতে হঠাৎ থেমে গেলেন এই কিংবদন্তি শিল্পী। আর এরপর সিডনিতে কাটানো তার চার দিনের গল্প যেন আরও বেশি চমকপ্রদ। বর্তমানে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন জায়গায় কনসার্ট নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন জেমস। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১২ সেপ্টেম্বর রাতে সিডনির নরওয়েস্টের হিলসং কনভেনশন সেন্টারে গিটার হাতে মঞ্চে ওঠেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন কলকাতার ফসিলস ব্যান্ডের রূপম ইসলাম।


‘দুষ্টু ছেলের দল’, ‘তারায় তারায়’, ‘ভিগি ভিগি’ থেকে আবেগঘন ‘মা’—একটির পর একটি জনপ্রিয় গান পরিবেশন করে হাজারো দর্শককে মাতিয়ে রাখেন জেমস। তবে কনসার্টের বাইরের জেমস ছিলেন একেবারেই অন্যরকম। অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর আরও চার দিন সিডনিতে ছিলেন তিনি। স্বল্পভাষী ও নিজের জগতে থাকতে পছন্দ করা এই শিল্পীকে শহরের রাস্তায় দেখা গেছে অনেকটা সাধারণ পর্যটকের মতো।


সিডনির ব্যস্ত সড়কে চলার সময় হঠাৎ ফুটপাতের এক কোণে বেহালা বাজানো এক তরুণ পথশিল্পীর কাছে থেমে যান জেমস। দীর্ঘ সময় ধরে অপলক শুনতে থাকেন তার বাদন। চারপাশে শহরের ব্যস্ততা চললেও সুরের মধ্যে যেন পুরোপুরি ডুবে গিয়েছিলেন তিনি। শুধু গান শোনা নয়, সিডনির বাণিজ্যিক এলাকার বিপণিবিতান ও বাজারেও ঘুরেছেন জেমস। ছিল না বাড়তি নিরাপত্তা কিংবা তারকাসুলভ কোনো আড়ম্বর। সহধর্মিণীর দেওয়া তালিকা হাতে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনেছেন। নিজের পছন্দের সুগন্ধির খোঁজেও গিয়েছেন শহরের একটি পুরোনো অভিজাত দোকানে।


সংগীতের পাশাপাশি আলোকচিত্রের প্রতি জেমসের ভালোবাসাও দীর্ঘদিনের। সিডনিতেও ক্যামেরা ছিল তার নিত্যসঙ্গী। বিকেলে কখনো আয়োজকদের সঙ্গে, আবার কখনো দীর্ঘদিনের সহযাত্রী ও ব্যান্ডের সদস্যদের সঙ্গে বেরিয়ে পড়েছেন ছবি তুলতে। কখনো গন্তব্য হয়েছে হারবারের তীরে কিরিবিলি, কখনো অপেরা হাউস চত্বর। ট্রাইপড বসিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে ছবি তুলেছেন তিনি। গোধূলির আলোয় হারবার ব্রিজ, পানির ঢেউ কিংবা অপেরা হাউসের শান্ত কোনো কোণ—সবই জায়গা করে নিয়েছে তার ক্যামেরায়।


এর মধ্যেই কিরিবিলির ঘাটে ঘটেছে মজার একটি ঘটনা। জেমস ও তার সঙ্গীরা ছবি তুলে দিতে এক অচেনা পথচারীকে অনুরোধ করেছিলেন। পরে জানা যায়, ওই ব্যক্তিও একজন পেশাদার আলোকচিত্রী। ক্যামেরা হাতে নিয়েই তিনি জেমসকে নির্দেশ দিতে শুরু করেন—কীভাবে দাঁড়াতে হবে, কোথায় তাকাতে হবে। সঙ্গীরা কিছুটা অপ্রস্তুত হলেও জেমস ছিলেন একেবারেই নির্ভার। মিষ্টি হেসে আলোকচিত্রীর সব নির্দেশ মেনে পোজ দিয়েছেন। এমন স্বাভাবিক ও আনন্দময় জেমসকে খুব বেশি দেখা যায় না বলেই জানিয়েছেন তার সঙ্গীরা।


আর গাড়িতে ঘোরার সময় জেমস শুনছিলেন ফরাসি জ্যাজ। ভাষাটি তার জানা না থাকলেও সুর আর আবেগ তাকে মুগ্ধ করেছিল। এ প্রসঙ্গে তার উপলব্ধি ছিল—সুরের কোনো ভাষা কিংবা ভূগোল নেই। গানের কথা না বুঝলেও এর আবেগ সরাসরি মানুষের হৃদয়ে পৌঁছে যেতে পারে। সিডনির চার দিনে তাই শুধু মঞ্চ মাতাননি নগরবাউল। অচেনা পথশিল্পীর বেহালার সুরে থেমেছেন, নিজের হাতে ছবি তুলেছেন, সাধারণ মানুষের মতো ঘুরেছেন আর সুরের ভাষাহীন শক্তিকে নতুন করে অনুভব করেছেন। মঞ্চের বাইরে এই নির্ভার জেমসের গল্পই এখন হয়ে উঠেছে তার সিডনি সফরের অন্যতম আকর্ষণ।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
হজের টাকা এজেন্সিকে দিলে সেই টাকার যাকাত দিতে হবে?

হজের টাকা এজেন্সিকে দিলে সেই টাকার যাকাত দিতে হবে?