একটি ছবি তুলতে মায়ের আইফোন হাতে নিয়ে বাসা থেকে বের হয়েছিল সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম। কিন্তু এরপর আর ফেরেনি সে। নিখোঁজের একদিন পর নির্জন জঙ্গল থেকে উদ্ধার হয় তার মরদেহ। আর তদন্তে একে একে সামনে আসছে তিন তরুণের নাম—তুহিন, শাহরিয়া আনাস ও ফাহিম। পুলিশ বলছে, প্রাথমিকভাবে আটক তিনজনই হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে নিশ্চিত হয়েছে তারা।
শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বের হয় অপ্রতীম। এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও সে বাসায় ফিরে না আসায় তার বাবা কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। পরদিন শনিবার দুপুর ১টার দিকে সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন জঙ্গল থেকে অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল।
তদন্তে পুলিশ অপ্রতীমের চলাচল ও মোবাইল ফোনের অবস্থানসহ বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করতে থাকে। পুলিশের তথ্যমতে, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত অপ্রতীমের ফোনের অবস্থান গন্ধমতী এলাকায় পাওয়া যায়। এরপর ফোনটির আর কোনো অবস্থান শনাক্ত হয়নি। অপ্রতীম নিখোঁজ হওয়ার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসহ আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে পুলিশ। সেখানে অপ্রতীমের সঙ্গে তুহিন নামে এক তরুণকে দেখা যায়। পরে তুহিনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শাহরিয়া আনাসকে আটক করা হয়। এরপর ফাহিমকেও আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত উদ্ধারের কথা জানিয়েছে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র। শনিবার রাত ৮টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন সালমানপুর এলাকায় তুহিনের বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকে অপ্রতীমের মায়ের আইফোন উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে আটক হওয়ার আগে অপ্রতীমের মৃত্যুর খবরসংবলিত একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছিলেন শাহরিয়া আনাস। সেখানে অপ্রতীমের সঙ্গে তার আগের কথোপকথনের স্মৃতিও তুলে ধরেন তিনি। তবে ওই পোস্টের বক্তব্য এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার বিষয়টি এখন তদন্তের অংশ। অপ্রতীম ছিলেন স্থানীয় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান ছিলেন তিনি।
অপ্রতীমের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের শনাক্ত এবং দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবিতে তারা বিক্ষোভ করেন। পাশাপাশি ১২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে দাবি পূরণ না হলে বিশ্ববিদ্যালয় অচল করে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আটক তিনজনের জিজ্ঞাসাবাদ ও উদ্ধার হওয়া আলামত যাচাই করে ঘটনার পুরো চিত্র নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। রোববার ২০ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টায় জেলা পুলিশের সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন