মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারাম থেকে এলো শোকের সংবাদ। ফজরের আজানের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে থাকা এক পরিচিত কণ্ঠ আর শোনা যাবে না। প্রবীণ মুয়াজ্জিন শায়খ ইবরাহিম বিন আদেল আল-মাদানি ইন্তেকাল করেছেন। সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর ফজরের ওয়াক্তে মক্কা নগরীতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। হারামাইন শরিফাইনের অফিসিয়াল সূত্রে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
শায়খ ইবরাহিম আল-মাদানি মসজিদুল হারামের মুকাব্বিরিয়ার অন্যতম সদস্য ছিলেন। মুকাব্বিরিয়ায় দায়িত্ব পালনকারী মুয়াজ্জিনরা শুধু আজানই দেন না, প্রয়োজন অনুযায়ী ইমামের তাকবিরও মুসল্লিদের কাছে পৌঁছে দেন। পবিত্র মসজিদুল হারামে নিয়মিত মুয়াজ্জিন রয়েছেন মোট ২৪ জন। তাদের মধ্যে প্রতিদিন ছয়জন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আজান এবং ফজরের প্রথম আজানের দায়িত্ব পালন করেন। আর শায়খ ইবরাহিম বিশেষভাবে ফজরের আজান ও তাকবিরের জন্য পরিচিত ছিলেন।
জানা গেছে, মসজিদুল হারামে তার সর্বশেষ আজান ছিল ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরিতে। দীর্ঘ কর্মজীবনে তার কণ্ঠে দেওয়া আজান, হজের তাকবির এবং ঈদের তাকবিরের বিভিন্ন রেকর্ড এখনো সংরক্ষিত রয়েছে। শায়খ ইবরাহিম আল-মাদানি ১৩৯৭ হিজরিতে মদিনা মুনাওয়ারায় জন্মগ্রহণ করেন। পারিবারিক পরিবেশেই তিনি পবিত্র কুরআন হিফজ করেন। মাত্র ১৫ বছর বয়সে মদিনার একটি স্থানীয় মসজিদে আজান দেওয়ার মাধ্যমে শুরু হয় তার মুয়াজ্জিন জীবনের পথচলা।
এরপর ১৪২৮ হিজরিতে তিনি মদিনার মসজিদ আল-মাদ্দাহতে আজানের দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ অভিজ্ঞতার পর ১৪৩৯ হিজরিতে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে পবিত্র মসজিদুল হারামের মুয়াজ্জিন হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। মদিনায় বেড়ে ওঠার কারণে তিনি আজানের মাদানি রীতি ও সুরের সঙ্গে ছোটবেলা থেকেই পরিচিত ছিলেন। আবার বাবার সঙ্গে মক্কায় যাতায়াতের কারণে মক্কি আজানের স্বতন্ত্র ধারার সঙ্গেও তার পরিচয় তৈরি হয়।
মক্কায় অবস্থানকালে তিনি মসজিদুল হারামের সাবেক মুয়াজ্জিন শায়খ আবদুল লতিফ মুল্লার সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। ফলে আজানের মক্কি ও মাদানি—দুই ধারার বৈশিষ্ট্য কাছ থেকে জানার সুযোগ পান তিনি। দীর্ঘদিন পবিত্র মসজিদুল হারামে আজানের দায়িত্ব পালন করা এই মুয়াজ্জিনের ইন্তেকালে হারামাইন সংশ্লিষ্ট মহলে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। তার কণ্ঠে উচ্চারিত আজানের স্মৃতি এবং সংরক্ষিত রেকর্ড এখন তার রেখে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতির অংশ হয়ে থাকবে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন