জ্বালানির চাহিদা বাড়ছে, আর সেই চাহিদা সামাল দিতে এবার কাতার থেকে আরও দুই কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস কিনছে বাংলাদেশ। নভেম্বরেই দেশে আসছে এই অতিরিক্ত এলএনজি। প্রশ্ন হচ্ছে—কেন হঠাৎ বাড়তি দুই কার্গো এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত নিতে হলো? দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণে দীর্ঘমেয়াদি সরকারি পর্যায়ের চুক্তির আওতায় কাতার এনার্জি ট্রেডিং এলএলসি থেকে দুই কার্গো অতিরিক্ত এলএনজি কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর চলতি বছরের কমিটির ৪৬তম সভায় এ প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে প্রস্তাবটি সভায় উপস্থাপন করা হয়। পরে কমিটি সেটি অনুমোদনের সুপারিশ করে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অতিরিক্ত দুই কার্গো এলএনজির একটি দেশে সরবরাহ করা হবে আগামী ৬ নভেম্বর। আর দ্বিতীয় কার্গোটি আসবে ২২ নভেম্বর। অর্থাৎ নভেম্বর মাসেই কাতার থেকে দুই দফায় অতিরিক্ত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পাবে বাংলাদেশ। দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে জ্বালানির চাহিদা পূরণে এই অতিরিক্ত সরবরাহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রেও রয়েছে নির্দিষ্ট হিসাব। সভায় জানানো হয়েছে, প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির মূল্য জেকেএমের দামের চেয়ে শূন্য দশমিক শূন্য দুই মার্কিন ডলার কম হারে নির্ধারণ করা হয়েছে। এই দাম বিদ্যমান দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে নির্ধারিত মূল্যের থেকে ভিন্ন। দুই কার্গো এলএনজির সরবরাহকারী হিসেবে কাতার এনার্জি ট্রেডিং এলএলসিকে সুপারিশ করা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি সরকারি পর্যায়ের চুক্তির আওতায় এই এলএনজি কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ বলছে, দেশের জ্বালানি চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। সেই চাহিদা পূরণে পর্যাপ্ত এলএনজি সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত এই দুই কার্গো কেনাও সেই চলমান ব্যবস্থারই অংশ। বিশেষ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানা এবং গ্যাসনির্ভর বিভিন্ন খাতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত এলএনজি সংগ্রহ করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, নভেম্বরের নির্ধারিত সময়ে কাতার থেকে এই দুই কার্গো এলএনজি দেশে পৌঁছানোর পর জাতীয় গ্যাস সরবরাহ ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে এর প্রভাব কতটা পড়ে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন