র্যাগিং, নির্যাতন থেকে শুরু করে সিল জালিয়াতি—বিভিন্ন অভিযোগে এবার একসঙ্গে বড় ধরনের শাস্তির মুখে পড়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৯ শিক্ষার্থী। কারও ছাত্রত্ব এক বছরের জন্য স্থগিত, কারও আবাসিকতা বাতিল, আবার অনেককে দেওয়া হয়েছে কঠোর সতর্কবার্তা। একই সঙ্গে শাস্তির বিষয়টি জানানো হবে তাদের অভিভাবকদেরও। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪৯তম সিন্ডিকেট সভায় মঙ্গলবার এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে বিষয়টি জানা যায়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলামও সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিভিন্ন বিভাগের মোট ৯৯ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে র্যাগিংয়ের অভিযোগে ১৪ জন, সিল জালিয়াতির অভিযোগে ৩ জন এবং জুনিয়রের হাতে সিনিয়র শিক্ষার্থী শারীরিক হামলার ঘটনায় একজনসহ মোট ১৮ শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব এক শিক্ষাবর্ষ বা দুই সেমিস্টারের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। এ ছাড়া দুই শিক্ষার্থীর আবাসিকতা বাতিল করা হয়েছে। এক বছরের জন্য ছাত্রত্ব স্থগিত হওয়া ১৮ জনসহ মোট ২০ শিক্ষার্থীকে ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক সুবিধার জন্য বিবেচনা না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে র্যাগিংয়ের অভিযোগে আরও ৭৯ শিক্ষার্থীকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে। তাদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ভবিষ্যতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে র্যাগিংয়ের সঙ্গে জড়িত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেলে আরও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। শুধু শিক্ষার্থীদের শাস্তি দিয়েই বিষয়টি শেষ করছে না বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের চিঠির মাধ্যমে পুরো বিষয়টি জানানো হবে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের পরিবারও তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া প্রশাসনিক ব্যবস্থার বিষয়ে অবগত হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিসিপ্লিনারি বোর্ডের সভায় উপস্থাপিত অভিযোগের তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছেন ব্যাংকিং ও বিমা বিভাগে ৩১ জন। এরপর ইতিহাস বিভাগে ১৮ জন, লোকপ্রশাসন বিভাগে ১৫ জন এবং ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগে ১৩ জন রয়েছেন। এ ছাড়া কৃষিবিষয়ক একটি বিভাগে ৭ জন, চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগে ৪ জন, শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগে ৪ জন এবং চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগে ৪ জনকে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। অর্থনীতি বিভাগে রয়েছেন ২ জন এবং গ্রাফিক নকশা, কারুশিল্প ও শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগে রয়েছেন একজন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই প্রায় একশ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য তার বার্তা হলো—বিশ্ববিদ্যালয়ে র্যাগিং বা এ ধরনের শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত হলে প্রশাসন কঠোর অবস্থান নেবে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে ক্যাম্পাসে র্যাগিং, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং অন্যান্য শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায় কঠোর অবস্থানের বার্তাই দেওয়া হলো।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন