চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় অবৈধভাবে মজুত করা বিপুল পরিমাণ সরকারি সার জব্দ করেছে প্রশাসন। মাত্র দুই দিনের পৃথক অভিযানে মোট ৯১৫ বস্তা সার জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় এক সার ও কীটনাশক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে। শনিবার জীবননগর উপজেলার হাসাদহ বাজারে অভিযান চালিয়ে ৫১২ বস্তা সার জব্দ করা হয়। এ সময় মেসার্স তৌফিক ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. আব্দুল খালেককে আটক করা হয়। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সোলায়মান শেখের নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়।
পুলিশ জানায়, হাসাদহ বাজারে ভর্তুকির সার অবৈধভাবে পাচারের খবর পেয়ে মেসার্স তৌফিক ট্রেডার্সে অভিযান চালানো হয়। পরে প্রতিষ্ঠানটির চারটি গোডাউন থেকে ৫১২ বস্তা সার জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে ব্যবসায়ী আব্দুল খালেককে আটক করা হয়। এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় জীবননগরের দত্তনগর সড়কে মেসার্স শান্তনা এন্টারপ্রাইজে অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন। সেখানে অবৈধভাবে মজুত করে রাখা ৪০৩ বস্তা সরকারি সার জব্দ করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুমাইয়া সুলতানা এ্যানির নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়। দুই দিনের অভিযানে হাসাদহ বাজার ও দত্তনগর সড়কের দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে সব মিলিয়ে ৯১৫ বস্তা সার জব্দ করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা এ্যানি জানিয়েছেন, সরকারি সার অবৈধভাবে মজুত কিংবা নিয়মবহির্ভূতভাবে বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। এসব ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে নিয়মিত মামলা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসন জানিয়েছে, কৃষকদের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি সার যাতে অবৈধভাবে মজুত, কালোবাজারি বা নিয়মবহির্ভূতভাবে বিক্রি করা না হয়, সে বিষয়ে নজরদারি অব্যাহত থাকবে। এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে জীবননগর উপজেলায় আরও অভিযান পরিচালনা করা হবে। দুই দিনের অভিযানে বিপুল পরিমাণ সরকারি সার উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, কৃষকদের জন্য বরাদ্দ করা ভর্তুকির সার যাতে প্রকৃত কৃষকদের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছে, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের অভিযান ও নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন