গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে মানবিক সংকট যখন আরও গভীর হচ্ছে, তখন এ পরিস্থিতিতে নীরব থাকবে না যুক্তরাজ্য—জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে এমনই বার্তা দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম। তিনি বলেছেন, দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনা রক্ষায় কথার পাশাপাশি কার্যকর পদক্ষেপও প্রয়োজন। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে বার্নহাম বলেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলার ঘটনা তিনি কঠোরভাবে নিন্দা করেন এবং হামাসের বিরুদ্ধেও যুক্তরাজ্যের অবস্থান অপরিবর্তিত। তবে তার বক্তব্য, ওই হামলার ঘটনা গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সরকারের কর্মকাণ্ডকে ন্যায্যতা দেয় না।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, গাজায় বিপুলসংখ্যক মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে শিশুও রয়েছে। একই সঙ্গে সেখানে পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা পৌঁছাচ্ছে না বলেও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার ভাষায়, এই পরিস্থিতি দীর্ঘদিন ধরে চলতে পারে না। পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতি নিয়েও কড়া অবস্থান তুলে ধরেন বার্নহাম। তিনি বলেন, সেখানে নতুন বসতি সম্প্রসারণের উদ্যোগ একটি কার্যকর ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্য অবৈধ বসতিতে উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা এবং বসতি নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ওপর নিষেধাজ্ঞাসহ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানান তিনি। যুক্তরাজ্য সরকার বলছে, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি তাদের অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে। বার্নহাম আরও বলেন, বছরের পর বছর ধরে বিশ্বনেতারা দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের কথা বলে আসছেন। কিন্তু শুধু বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে মানুষের আস্থা আরও কমতে পারে। তাই এই সমাধানের সম্ভাবনা ধরে রাখতে বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
এদিকে জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপদ ব্যবহার নিয়েও কথা বলেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অবকাঠামো সুরক্ষা এবং প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়াতে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি অংশীদারত্ব গড়ে তুলছে বলে তিনি জানিয়েছেন। পাশাপাশি এই প্রযুক্তির নিরাপদ ও দায়িত্বশীল ব্যবহারের জন্য আন্তর্জাতিক নীতিমালা তৈরির ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন। রাশিয়া থেকে আসা নিরাপত্তা হুমকির বিষয়টিও তার বক্তব্যে উঠে এসেছে। ব্রিটিশ সরকার সামরিক সক্ষমতা ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পাশাপাশি রাশিয়ার তথ্যযুদ্ধ ও সাইবার হামলার ঝুঁকি মোকাবিলার কথা বলছে।
সব মিলিয়ে জাতিসংঘে বার্নহামের বক্তব্যে গাজা ও পশ্চিম তীরের মানবিক পরিস্থিতি, দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপত্তা এবং ইউরোপের প্রতিরক্ষা—একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। তবে ফিলিস্তিন প্রশ্নে তার সবচেয়ে জোরালো বার্তা ছিল, দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনা রক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে শুধু বক্তব্য নয়, বাস্তব পদক্ষেপও নিতে হবে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন