চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের প্রধান ও অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোর বেহাল দশা দূর করে দ্রুত সংস্কারের দাবি জানানো হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক এখন খানাখন্দে ভরে গেছে। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াতকারী সবার চলাচলে তৈরি হয়েছে মারাত্মক ঝুঁকি। এই পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো দ্রুত সংস্কারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর আবেদন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ, চাকসুর সহকারী সাধারণ সম্পাদক আইয়ুবুর রহমান তৌফিক।
উপাচার্যের কাছে দেওয়া আবেদনে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে ১ নম্বর ফটক থেকে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সড়কের দুরবস্থার কথা। দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় অনেক জায়গায় পিচঢালাই উঠে গেছে। তৈরি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। বর্ষা মৌসুমে এসব গর্তে পানি জমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। ফলে যান চলাচলে যেমন বিঘ্ন ঘটছে, তেমনি বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও। বিশেষ করে মোটরসাইকেল ও সাইকেলে চলাচলকারী শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সড়কের গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে কিংবা পানিতে গর্ত দেখতে না পাওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
শুধু প্রধান সড়ক নয়, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ সংযোগ সড়কও দ্রুত সংস্কারের দাবি জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২ নম্বর ফটক থেকে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত ল্যাবরেটরি স্কুল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল, শাহ আমানত হল ও শাহজালাল হলসংলগ্ন সড়ক। একই সঙ্গে আবদুর রব হলের সামনের সড়ক এবং সমাজবিজ্ঞান অনুষদ মোড় থেকে বন ও পরিবেশবিদ্যা ইনস্টিটিউট হয়ে মাস্টারদা সূর্যসেন হলমুখী সংযোগ সড়কগুলোর জরুরি মেরামতের কথাও বলা হয়েছে। আবেদনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দ্রুত সরেজমিনে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো পরিদর্শনের আহ্বান জানানো হয়েছে। কোন সড়কগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ, তা চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংস্কারকাজ শুরু করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
শুধু তাৎক্ষণিক সংস্কার নয়, ভবিষ্যতে যেন আবার একই পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেজন্য নিয়মিত তদারকি এবং টেকসই সড়ক ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নেওয়ারও দাবি জানানো হয়েছে। কারণ, একটি বড় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিরাপদ সড়ক শুধু যাতায়াতের সুবিধা নয়, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসহ সবার নিরাপত্তার সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত। চাকসুর সহকারী সাধারণ সম্পাদক আইয়ুবুর রহমান তৌফিক বলেন, ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীসহ সবার নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর দ্রুত সংস্কার জরুরি। শিক্ষার্থীদের প্রতিদিনের ভোগান্তি কমাতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন তিনি। এখন দেখার বিষয়, শিক্ষার্থীদের এই দাবির পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কত দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো পরিদর্শন করে সংস্কারের উদ্যোগ নেয়। দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করে ক্যাম্পাসের সড়কগুলো নিরাপদ ও চলাচল উপযোগী করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ চান শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন