ঢাকা | |
সংবাদ শিরোনাম :
এআই গবেষণায় এআইইউবি ও ব্রেইন স্টেশন ২৩-এর যৌথ উদ্যোগ গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে কারিগরি আলোচনা চলছে: রণধীর জয়সোয়াল সাদিক কায়েম মেয়েদের প্যান্ট-জার্সি পরিয়ে মাঠে নামিয়ে গর্ব করে: মুফতি রেজাউল করীম আইএল টি-টোয়েন্টির নিলামে ১০ বাংলাদেশি, রানা-রিশাদদের দাম ৯৮ লাখ টাকা ‘ভাইরাল’ মিজানের ১০০ টাকায় গরুর মাংস-ভাতের হোটেল ফের উচ্ছেদ থানার ভেতরে দাঁড়িয়ে ‘থানার ইট খুলে নেওয়ার’ হুমকি এনসিপি নেতার ল্যাপটপ চুরি করে দল থেকে বহিষ্কার হয়েছিলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী: রাশেদ খাঁন সমঝোতা ভিত্তিতে প্রস্তাবিত সংবিধানে ‘নোট অব ডিসেন্টে’ ছাড়ের সুযোগ রয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ কোনো নিষিদ্ধ বই নয়: আসিফ নজরুল অপরাধীর একমাত্র পরিচয় অপরাধী

রাজধানীতে আট মাসে ৪০০ বেওয়ারিশ মরদেহ দাফন

রাজধানীর কোথাও খালে, কোথাও ঝিলে, আবার কখনো ফুটপাত, হাসপাতালের আশপাশ, পরিত্যক্ত ভবন কিংবা নির্জন জায়গা থেকে উদ্ধার হচ্ছে
  • আপলোড সময় : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:৫২ সময়
  • আপডেট সময় : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:৫২ সময়
রাজধানীতে আট মাসে ৪০০ বেওয়ারিশ মরদেহ দাফন

রাজধানীর কোথাও খালে, কোথাও ঝিলে, আবার কখনো ফুটপাত, হাসপাতালের আশপাশ, পরিত্যক্ত ভবন কিংবা নির্জন জায়গা থেকে উদ্ধার হচ্ছে মরদেহ। কোনো মরদেহে মিলছে আঘাতের চিহ্ন, আবার দীর্ঘ সময় পড়ে থাকায় পচন ধরে মুছে যাচ্ছে পরিচয়ের শেষ চিহ্নটুকুও। এভাবে একের পর এক অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে। আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের তথ্য বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট—এই আট মাসে রাজধানীতে ৪০০টি বেওয়ারিশ মরদেহের দাফন বা সৎকার করা হয়েছে। এর মধ্যে রায়েরবাজার কবরস্থানে ৩২৬টি এবং জুরাইন কবরস্থানে ৭৪টি মরদেহ দাফন করা হয়। মাসভিত্তিক হিসাবে জানুয়ারিতে ৩০টি, ফেব্রুয়ারিতে ৫৯টি, মার্চে ৫২টি, এপ্রিলে ৪৬টি, মে মাসে ৫৬টি, জুনে ৬৭টি, জুলাইয়ে ৪২টি এবং আগস্টে ৪৮টি মরদেহের শেষকৃত্যের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অর্থাৎ আট মাসে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৫০টি বেওয়ারিশ মরদেহের দাফন বা সৎকার করেছে সংস্থাটি।


সর্বশেষ গত শুক্রবার রাজধানীর শ্যামপুর থানার জুরাইন রেলওয়ে সেতুর নিচে একটি পরিত্যক্ত গণশৌচাগার থেকে আনুমানিক ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহটির মাথায় এতটাই পচন ধরেছিল যে হাড় বেরিয়ে এসেছিল। কপালেও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। পুলিশের ধারণা, উদ্ধারের ১৫ থেকে ২০ দিন আগেই কিশোরটির মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। শ্যামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জানান, পচন ধরে যাওয়ায় সিআইডি মরদেহ থেকে আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করতে পারেনি। পরিচয় শনাক্তের জন্য এলাকায় প্রচারণা চালানো হলেও এখন পর্যন্ত কিশোরটির বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।


তবে জুরাইনের ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন নয়। চলতি বছর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একাধিক অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধারের খবর সামনে এসেছে। পূর্ণাঙ্গ সরকারি পরিসংখ্যান না থাকলেও প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদনগুলোর হিসাবে শুধু শাহবাগ থানা এলাকাতেই চলতি বছরে অন্তত ১১টি অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। তবে অজ্ঞাত এবং বেওয়ারিশ মরদেহ এক বিষয় নয়। কোনো মরদেহ উদ্ধারের সময় পরিচয় জানা না থাকলে সেটি অজ্ঞাত হিসেবে নথিভুক্ত হয়। এরপর পুলিশ পরিচয় শনাক্ত এবং স্বজনদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব না হলে সেটিকে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন বা সৎকারের ব্যবস্থা করা হয়। ফলে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের ৪০০টি বেওয়ারিশ মরদেহের হিসাবকে রাজধানীতে উদ্ধার হওয়া মোট অজ্ঞাত মরদেহের সংখ্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।


পুলিশও এই সংখ্যাকে রাজধানীতে অজ্ঞাত মরদেহ বেড়ে যাওয়ার সরাসরি প্রমাণ হিসেবে দেখছে না। ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, এতসংখ্যক বেওয়ারিশ মরদেহ থাকার বিষয়ে তাঁর কাছে বিস্তারিত তথ্য নেই। ডিএমপির অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. আক্তার হোসেনও বলেছেন, বেওয়ারিশ মরদেহ বেড়েছে—এমন তথ্য পুলিশের কাছে নেই। বিষয়টি বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। অন্যদিকে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুলিশের অনুমোদন ছাড়া কোনো মরদেহ বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয় না।


অজ্ঞাত মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করতেও নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয়। নতুন অবস্থায় উদ্ধার হওয়া মরদেহ থেকে আঙুলের ছাপ, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য, মোবাইল ফোন, পোশাক কিংবা ব্যক্তিগত সামগ্রীর মাধ্যমে পরিচয় শনাক্তের সুযোগ থাকে। কিন্তু কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহ পর পচন শুরু হলে আঙুলের ছাপ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তখন ডিএনএ পরীক্ষা, সিসিটিভি ফুটেজ, নিখোঁজ ব্যক্তিদের তথ্য এবং স্বজনদের দেওয়া বর্ণনার ওপর নির্ভর করতে হয়। সব ক্ষেত্রে এসব তথ্য বা প্রযুক্তিগত সহায়তাও পাওয়া যায় না।


সমাজবিজ্ঞানী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক মনে করেন, পরিচয়হীন মরদেহের বিষয়টি শুধু আইনশৃঙ্খলার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে পুরো পরিস্থিতি বোঝা যাবে না। পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন দুর্বল হয়ে যাওয়া, গৃহহীনতা, একাকিত্ব এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার মতো কারণও এর সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে। একই সঙ্গে কোনো মরদেহের পেছনে অপরাধ বা হত্যাকাণ্ড রয়েছে কি না, সেটিও গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন।


তিনি পরিচয় শনাক্তে পুলিশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিখোঁজ ব্যক্তিদের তথ্যভান্ডার, হাসপাতাল, স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
শেখ হাসিনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ও ভারত মিলে নেবে, ‘আশা’ যুক্তরাষ্ট্রের

শেখ হাসিনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ও ভারত মিলে নেবে, ‘আশা’ যুক্তরাষ্ট্রের