ঢাকা | |
সংবাদ শিরোনাম :

রেলের আয় বাড়াতে ট্রেনে বাড়ছে কোচ

টিকিটের চাহিদা আছে, যাত্রী আছে—কিন্তু আসন নেই। ব্যস্ত রুটের অনেক আন্তঃনগর ট্রেনে দীর্ঘদিন ধরেই এমন পরিস্থিতি। এবার সেই
  • আপলোড সময় : ৫ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৯:৩০ সময়
  • আপডেট সময় : ৫ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৯:৩০ সময়
রেলের আয় বাড়াতে ট্রেনে বাড়ছে কোচ

টিকিটের চাহিদা আছে, যাত্রী আছে—কিন্তু আসন নেই। ব্যস্ত রুটের অনেক আন্তঃনগর ট্রেনে দীর্ঘদিন ধরেই এমন পরিস্থিতি। এবার সেই সংকট কমাতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। যেসব ট্রেনে নিয়মিত যাত্রীচাপ বেশি, পর্যায়ক্রমে সেসব ট্রেনে অতিরিক্ত কোচ যুক্ত করার পরিকল্পনা করছে কর্তৃপক্ষ। এতে একদিকে যেমন আরও বেশি যাত্রী ট্রেনে ভ্রমণের সুযোগ পাবেন, অন্যদিকে টিকিট বিক্রি বাড়িয়ে রেলের আয়ও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।


বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, ব্যস্ত বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী অনেক ট্রেনে আসনের তুলনায় টিকিটের চাহিদা বেশি। বিশেষ করে ছুটির দিন ও উৎসবের সময় যাত্রীচাপ আরও বেড়ে যায়। ফলে অনেক যাত্রী টিকিট না পেয়ে ট্রেনে ভ্রমণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। আবার অতিরিক্ত যাত্রীর কারণে ট্রেনের ভেতরেও তৈরি হয় অস্বস্তিকর পরিবেশ। এ অবস্থায় নতুন ট্রেন চালুর অপেক্ষায় না থেকে বিদ্যমান ট্রেনগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে রেলওয়ে। নিয়মিতভাবে যেসব ট্রেনে আসনের তুলনায় যাত্রীচাহিদা বেশি, সেসব ট্রেনে অতিরিক্ত কোচ যুক্ত করা হবে। এতে তুলনামূলক কম সময়ের মধ্যে আসনসংখ্যা বাড়িয়ে যাত্রীসেবা সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে।


এর সঙ্গে রেলের রাজস্ব আয় বাড়ানোরও বড় সম্ভাবনা দেখছেন কর্মকর্তারা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ রেলওয়ের মোট আয় হয়েছে ২ হাজার ৬৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। আগের অর্থবছরে এই আয় ছিল ১ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে রেলের আয় বেড়েছে ২২১ কোটি টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান এসেছে যাত্রী পরিবহন খাত থেকে। আগের অর্থবছরের তুলনায় শুধু যাত্রী পরিবহন থেকেই অতিরিক্ত ২৫৬ কোটি টাকা আয় হয়েছে। রেলওয়ে কর্মকর্তাদের মতে, যাত্রীচাহিদা থাকা সত্ত্বেও কোচের সংকটের কারণে আসন দেওয়া সম্ভব না হলে সম্ভাব্য রাজস্ব হারাতে হয়। তাই চাহিদাসম্পন্ন ট্রেনে অতিরিক্ত কোচ যুক্ত করা গেলে একই সঙ্গে যাত্রীসেবা ও আয়—দুই ক্ষেত্রেই সুফল পাওয়া যাবে।


তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে কোচের স্বল্পতা। বর্তমানে পুরোনো কোচের পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনেও বিভিন্ন সময় কোচ চলাচল থেকে প্রত্যাহার করতে হয়। ফলে চাহিদা থাকলেও সব ট্রেনে ইচ্ছামতো অতিরিক্ত কোচ সংযোজন করা সম্ভব হয় না। এই সংকট কাটাতে নতুন কোচ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন কোচ বহরে যুক্ত হলে একদিকে চাহিদাসম্পন্ন ট্রেনে কোচ বাড়ানো যাবে, অন্যদিকে প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন ট্রেন চালুর সুযোগও তৈরি হবে।


শুধু যাত্রী পরিবহন নয়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণে রেলের আরও বিভিন্ন খাতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গত ২৩ আগস্টের মাসিক পর্যালোচনা সভায় পশ্চিমাঞ্চলের ট্রেনগুলোকে নির্ধারিত মানসম্মত কাঠামো অনুযায়ী পরিচালনা, পরিত্যক্ত মালামালের দরপত্র দ্রুত নিষ্পত্তি, কমিউটার, লোকাল ও মেইল ট্রেন ইজারা এবং নতুন নির্মিত স্টেশনে দোকান বরাদ্দের মতো বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এ ছাড়া জয়দেবপুর কমিউটার, অভিযাত্রী কমিউটার ও সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেসের যাত্রীসংখ্যা এবং আয় পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রেলের ভূসম্পত্তি বিভাগ থেকে পাওয়া আয় হিসাব বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে পরবর্তী পর্যালোচনা সভায় উপস্থাপনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।


রেলওয়ে কর্মকর্তাদের মতে, কোন রুটে কতটা যাত্রীচাহিদা রয়েছে, তা বিশ্লেষণ করে সঠিক ট্রেনে অতিরিক্ত কোচ যুক্ত করা গেলে বড় ধরনের অবকাঠামো নির্মাণের অপেক্ষা ছাড়াই দ্রুত যাত্রীসেবা বাড়ানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে বাড়তে পারে টিকিট বিক্রি এবং রেলের রাজস্ব আয়।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
পদত্যাগ করেছেন বিএনপির এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি, আসন শূন্য ঘোষণা

পদত্যাগ করেছেন বিএনপির এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি, আসন শূন্য ঘোষণা