এক মিনিটের ব্যবধান—আর সেই সময়ের মধ্যেই পরপর চারটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ! গভীর রাতে হঠাৎ এমন শব্দে ঘুম ভেঙে আতঙ্কে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন পটুয়াখালীর বাউফলের স্থানীয় বাসিন্দারা। কেউ ভাবছিলেন ডাকাতি হয়েছে, কেউ আবার আশঙ্কা করছিলেন বড় ধরনের কোনো হামলার। কিন্তু বাইরে বেরিয়ে মিলল না বিস্ফোরণের কোনো স্পষ্ট চিহ্ন।
মঙ্গলবার ৬ অক্টোবর রাত পৌনে ১টার দিকে বাউফল উপজেলার ধুলিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ সংলগ্ন বাজার ও আশপাশের এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, অল্প সময়ের ব্যবধানে পরপর চারটি বিকট শব্দ শোনা যায়। শব্দ এতটাই তীব্র ছিল যে অনেকের ঘুম ভেঙে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
প্রথমে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা ধারণা করেন, হয়তো কোথাও ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এরপর নিরাপত্তার জন্য লাঠিসোঁটা নিয়ে কয়েকজন ঘর থেকে বের হয়ে রাস্তায় চলে আসেন। আশপাশের বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও অবশ্য কাউকে পাওয়া যায়নি। শুধু তাই নয়, যে জায়গা থেকে বিস্ফোরণের শব্দ এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছিল, সেখানেও কোনো নির্দিষ্ট আলামত বা বিস্ফোরণের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ফলে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।
স্থানীয়দের কেউ কেউ ধারণা করছেন, পরিকল্পিতভাবে আতঙ্ক তৈরি করার জন্য ককটেল বা অন্য কোনো বিস্ফোরকজাতীয় বস্তু বিস্ফোরণ ঘটানো হয়ে থাকতে পারে। তবে ঠিক কী কারণে এত বিকট শব্দ হলো, সেখানে কোনো বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, কিংবা এর সঙ্গে কারা জড়িত—এসব বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, তিনি এ ধরনের কোনো ঘটনার খবর পাননি। তবে বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দেখবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা রফিক হাওলাদার বলেন, তারা সবাই ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দে তাদের ঘুম ভেঙে যায়। প্রথমে কোথাও ডাকাতি হচ্ছে বলে মনে হয়েছিল। পরে কয়েকজন মিলে ঘর থেকে বের হয়ে রাস্তায় এলেও কাউকে দেখা যায়নি। তার ধারণা, ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়ে থাকতে পারে।
তবে এখন পর্যন্ত বিস্ফোরণের উৎস কিংবা ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাই গভীর রাতে পরপর চারটি বিকট শব্দের এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, সেটি কাটতে তদন্ত করে প্রকৃত কারণ বের করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন