ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান কী হওয়া উচিত—এ নিয়ে নতুন করে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, ভারতের সঙ্গে কোনো ধরনের বৈরিতা বা শত্রুতা বাংলাদেশ চায় না। তবে একই সঙ্গে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ কতটা সুরক্ষিত হচ্ছে, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। বুধবার বিকেলে রাজধানীর পলাশী মোড়ে আবরার ফাহাদের সপ্তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। আবরার ফাহাদ স্মৃতি সংসদ এই সভার আয়োজন করে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে একাধিক অভিন্ন নদী রয়েছে। আন্তর্জাতিক নদী আইন অনুযায়ী এসব নদীর পানিতে বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা পাওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ সময়েও সেই হিস্যা নিশ্চিত হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর মতে, দুই দেশের সম্পর্ক ভালো রাখতে হলে অভিন্ন নদীগুলোর পানি বণ্টনে ন্যায্যতা নিশ্চিত করা জরুরি। গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির বিষয়টিও সামনে আনেন নাহিদ ইসলাম। ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির ৩০ বছরের মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা। তাঁর দাবি, পুরোনো চুক্তি শুধু নবায়ন করলেই হবে না; বাংলাদেশের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে নতুন করে চুক্তি করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, নতুন চুক্তিতে শুধু পানির পরিমাণ নির্ধারণ করলেই চলবে না। নদীর যৌথ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের অংশীদারত্ব নিশ্চিত করতে হবে। শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রবাহ কমে গেলে দুই দেশ যেন ঘাটতির প্রভাব সমভাবে বহন করে, সে ধরনের নিশ্চয়তাও চুক্তিতে রাখা প্রয়োজন বলে দাবি করেন তিনি। গঙ্গার পাশাপাশি তিস্তাসহ সব অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন এবং নদী ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের সমান অংশীদারত্ব নিশ্চিত করার আহ্বান জানান নাহিদ ইসলাম। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ভারত যদি সত্যিই বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিবেশীসুলভ ও সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চায়, তাহলে অভিন্ন নদীগুলোর ক্ষেত্রে ন্যায্য সমাধানের প্রমাণ দিতে হবে।
সরকারের উদ্দেশে নাহিদ ইসলাম বলেন, শুধু বিদেশ থেকে বিমান কেনা বা অন্য কোনো বড় প্রকল্প গ্রহণ করাই যথেষ্ট নয়। আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলোতে বাংলাদেশের স্বার্থ কতটা নিশ্চিত হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। গঙ্গার পানি বণ্টনসহ বাংলাদেশের সঙ্গে করা গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলো সংসদে আলোচনা করারও দাবি জানান তিনি। আবরার ফাহাদের হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আবরার ফাহাদের অবস্থানকে স্মরণ করতে হলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কেও সমতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার সব আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে আদালতের দেওয়া রায় কার্যকর করার দাবি জানান তিনি।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন