মাত্র ৮ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে যখন ধুঁকছিল বাংলাদেশ, তখনই ব্যাট হাতে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই শুরু করেন সোবহানা মোস্তারি ও অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। একদিকে রেকর্ড গড়া সেঞ্চুরি, অন্যদিকে অধিনায়কের দুর্দান্ত ইনিংস—সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছিল নতুন ইতিহাসের মুহূর্ত। কিন্তু এত বড় অর্জনের পরও শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৯ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হারতে হয়েছে বাংলাদেশের নারী দলকে। পরাজয়ের মাঝেও সোবহানার এই অসাধারণ সাফল্যকে দলের জন্য বড় প্রাপ্তি হিসেবে দেখছেন অধিনায়ক জ্যোতি।
রোববার, ১১ অক্টোবর ব্রিজবেনের অ্যালান বোর্ডার মাঠে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে দলটি। মাত্র ৮ রানের মধ্যে তিনটি উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে টাইগ্রেসরা। এমন কঠিন পরিস্থিতিতে চতুর্থ উইকেটে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন সোবহানা মোস্তারি ও নিগার সুলতানা জ্যোতি। দুজনের ২৪৩ বলে ১৯৫ রানের জুটি বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসে যেকোনো উইকেটে সর্বোচ্চ রানের জুটি হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়ে। এই জুটিতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন সোবহানা। ১২৩ বল খেলে ১৫টি চারের সাহায্যে পূর্ণ করেন নিজের প্রথম ওয়ানডে শতক। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের হয়ে ওয়ানডেতে প্রথম সেঞ্চুরি করা নারী ক্রিকেটারও তিনি। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের নারী ওয়ানডে ইতিহাসে তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে শতকের দেখা পেলেন সোবহানা। এর আগে ফারজানা হক দুবার এবং নিগার সুলতানা একবার এই কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন।
সেঞ্চুরির পরও থামেননি সোবহানা। শেষ পর্যন্ত ১৩৪ বলে ১৮টি চারের সাহায্যে ১১৮ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের নারী ওয়ানডে ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের রেকর্ডও নিজের করে নেন এই ব্যাটার। এর আগে ২০২৩ সালে ভারতের বিপক্ষে ১০৭ রান করে রেকর্ডটি গড়েছিলেন ফারজানা হক। অন্যদিকে অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি খেলেন ৭৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস। দুজনের অসাধারণ ব্যাটিংয়ে বিপর্যয় সামলে লড়াই করার মতো অবস্থানে পৌঁছালেও বোলিংয়ে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। ফলে ৯ উইকেটের বড় ব্যবধানে জয় তুলে নেয় অস্ট্রেলিয়া।
ম্যাচ শেষে সোবহানার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন অধিনায়ক জ্যোতি। তাঁর মতে, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সোবহানার প্রথম শতক শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, এটি বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্যও ঐতিহাসিক অর্জন। ব্যাটিংয়ের সময় সোবহানাকে বারবার শতক পূরণের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন বলেও জানান তিনি। জ্যোতি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সোবহানা ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলছেন। এই সাফল্য তাঁর প্রাপ্য এবং সতীর্থ হিসেবে তাঁর এমন অর্জনে তিনি আনন্দিত।
নিজের সেঞ্চুরি নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন সোবহানা মোস্তারিও। তিনি জানান, কোচ ও সতীর্থদের সহযোগিতা তাঁকে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে। আগের ম্যাচে দ্রুত আউট হওয়ার পর নিজের ভুল বুঝতে পেরে কোচ ও সতীর্থদের পরামর্শ নেন তিনি। এরপর পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্যাটিং করেই সফল হয়েছেন। সোবহানা আরও জানান, প্রধান কোচ ডেভিড হেম্প তাঁকে ৪২ ওভার পর্যন্ত উইকেটে থাকার পরিকল্পনা দিয়েছিলেন। দলের শুরুতেই তিন উইকেট পড়ে যাওয়ার পর পরিস্থিতি বুঝে ব্যাটিং করেন তিনি এবং নিজের শক্তির জায়গাগুলো কাজে লাগানোর চেষ্টা করেন।
সব মিলিয়ে ম্যাচে হারলেও সোবহানার রেকর্ডময় সেঞ্চুরি বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটে নতুন আশার বার্তা দিয়েছে। এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো এই ব্যক্তিগত সাফল্যকে দলীয় জয়ে রূপ দেওয়া।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন