গাজীপুরের টঙ্গীতে প্রথম শ্রেণির এক শিশুকন্যাকে (৭) শ্লীলতাহানির অভিযোগে মো. মোসলেম উদ্দিন (৩০) নামে এক মাদরাসাশিক্ষককে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শিশুটির বাবার দায়ের করা নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় অভিযুক্ত ওই শিক্ষককে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
অপরদিকে, সংশ্লিষ্ট মাদরাসায় বেআইনিভাবে প্রবেশ, ভাঙচুর চালানো, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের লাঞ্ছিত করা এবং নগদ ১৭ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে পাল্টা মামলা দায়ের করেছে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। গত বুধবার (২১ অক্টোবর) টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার 'ক্বারীউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসা'য় এ অপ্রীতিকর ঘটনার সূত্রপাত হয়। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার দুপুরে অভিযুক্ত শিক্ষক মোসলেম উদ্দিনকে বিচারকের নির্দেশে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। মাদরাসা কর্তৃপক্ষের মামলার আরজি ও সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন ভুক্তভোগী শিশুর অভিভাবক শাহজালাল রুমি (৩০) অন্তত ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল নিয়ে বলপূর্বক মাদরাসা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন। অভিযোগ উঠে, তারা প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষের কক্ষের গ্লাস ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি ভাঙচুর করেন। মামলার এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ছাত্রীকে অনুচিতভাবে স্পর্শ (ব্যাড টাচ) করার অভিযোগ তুলে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষক মোসলেম উদ্দিনের মাথায় ভারী স্টেপলার দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত করা হয়। জামাকাপড় ছিঁড়ে তাকে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। এতে বাধা দিতে গেলে অন্য শিক্ষক-শিক্ষিকা, উপাধ্যক্ষ ও সিকিউরিটি গার্ড দেলোয়ার হোসেন পাটোয়ারীকেও মারধর এবং অসম্মান করা হয়।
কর্তৃপক্ষের দাবি, সে সময় অফিসের ড্রয়ারে জমি বিক্রির রাখা নগদ ১৭ লাখ টাকা লুটে নেয় হামলাকারীরা। পুরো বিশৃঙ্খলার চিত্র প্রতিষ্ঠানের সিসিটিভি ক্যামেরায় রেকর্ড করা আছে বলে জানান অধ্যক্ষ। এ প্রসঙ্গে টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, মাদরাসায় ধর্ষণ বা সমকামিতার মতো ঘটনা ঘটেনি। তবে প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে অসদ্ব্যবহার বা চুমু দেওয়ার অভিযোগে শিশুটির বাবার লিখিত অভিযোগটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতায় মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। এই মামলায় শিক্ষক মোসলেম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হলে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রতিষ্ঠানে অনধিকার চর্চা, সন্ত্রাসী স্টাইলে আক্রমণ, অসদাচরণ, নারী শিক্ষিকা ও কর্মচারীদের মারধর এবং ১৭ লাখ টাকা চুরির অভিযোগে মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ বাদী হয়ে আরেকটি মামলা করেছেন। এ মামলায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
স্টাফ রির্পোটার
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন