বাংলাদেশের ক্রিকেটে আবারও দুঃসংবাদ! একের পর এক চোটের কারণে মাঠে ফেরার অপেক্ষা দীর্ঘ হচ্ছে দেশের অন্যতম গতিমান পেসার নাহিদ রানার। পুরোনো চোটের পুনর্বাসন চলার মধ্যেই নতুন করে ধরা পড়েছে কাঁধের ল্যাব্রাম ছিঁড়ে যাওয়ার সমস্যা। অস্ট্রেলিয়ার পার্থে চিকিৎসকদের পরীক্ষায় এই চোট শনাক্ত হওয়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আসন্ন দুই টেস্টের সিরিজে খেলা হচ্ছে না তাঁর। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই সিরিজের আগে বোলিং আক্রমণে বড় ধাক্কা খেল বাংলাদেশ দল।
নাহিদের জন্য সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার বিষয় হলো, তাঁর মাঠে ফেরার নির্দিষ্ট সময় এখনো নিশ্চিত নয়। শুধু ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ নয়, আগামী নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের টেস্ট সিরিজেও তাঁকে পাওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। আপাতত পুরোপুরি সুস্থ হয়ে আবারও বোলিংয়ে ফেরাই এই তরুণ পেসারের প্রধান লক্ষ্য। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ৩০ অক্টোবর থেকে বোলিং শুরু করতে পারেন নাহিদ। তবে বোলিংয়ে ফিরলেই যে তিনি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার মতো প্রস্তুত হয়ে যাবেন, এমন নিশ্চয়তা নেই। পুনর্বাসনের সময় তাঁর শরীর কেমন সাড়া দেয়, তার ওপর নির্ভর করবে পরবর্তী পদক্ষেপ।
নাহিদের চোটের পেছনের কারণ খুঁজে বের করতে দ্বিতীয়বারের মতো অস্ট্রেলিয়ায় যেতে হয়েছে তাঁকে। গত জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ে সফরে বাংলাদেশের হয়ে খেলার সময় গ্রেড-টু সাইড স্ট্রেইনে আক্রান্ত হয়েছিলেন এই পেসার। সেই চোট কাটিয়ে মাঠে ফেরার জন্য চলছিল পুনর্বাসন। কিন্তু সুস্থ হওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যেই পিঠের নিচের অংশ ও শ্রোণি অঞ্চলে ব্যথা এবং দুর্বলতা অনুভব করতে থাকেন তিনি। ফলে বোলিংয়ে ফেরার প্রস্তুতিও ব্যাহত হয়।
শুরুতে শারীরিক সমস্যার সুনির্দিষ্ট কারণ শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সিদ্ধান্তে বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য তাঁকে অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানো হয়। পার্থে চিকিৎসক পিটার দি আলেসান্দ্রোর তত্ত্বাবধানে পরীক্ষা করার পর ল্যাব্রাম ছিঁড়ে যাওয়ার চোট ধরা পড়ে। ক্রিকেটভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ক্রিকবাজকে বিসিবির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অস্ট্রেলিয়ায় নাহিদকে ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে এবং তাঁর পুনর্বাসনও শুরু হয়েছে। চিকিৎসকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ধাপে ধাপে তাঁকে বোলিংয়ের জন্য প্রস্তুত করা হবে। পুনর্বাসনের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেই ঠিক করা হবে, কখন তিনি পুরোপুরি অনুশীলনে ফিরতে পারবেন।
নাহিদের দেশে ফেরার টিকিট নির্ধারিত ছিল ২৮ অক্টোবর। তবে পুনর্বাসনের বাকি অংশ অস্ট্রেলিয়াতেই চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও তাঁর এই সিদ্ধান্তে সম্মতি দিয়েছে। ফলে পার্থেই চিকিৎসক, ফিজিও ও প্রশিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে চলবে তাঁর সুস্থ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়া। বাংলাদেশের পেস আক্রমণে নাহিদ রানা গুরুত্বপূর্ণ এক নাম। তাঁর গতি ও আক্রমণাত্মক বোলিং প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। তাই তাঁকে দীর্ঘ সময়ের জন্য না পাওয়া দলের জন্য নিঃসন্দেহে উদ্বেগের বিষয়। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, কবে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরবেন এই গতিতারকা? আপাতত সেই উত্তরের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন