দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং জ্বালানি খাতের সংকট নিয়ে এবার সরাসরি দুই মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি—এনসিপি। শুধু পদত্যাগের দাবি নয়, এ নিয়ে রাজধানীর শাহবাগে গণবিক্ষোভের ঘোষণাও দিয়েছেন দলটির আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম। একই সঙ্গে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে ক্ষমতাসীন বিএনপিকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। কিন্তু কী কারণে এতটা কঠোর অবস্থানে গেল এনসিপি?
সোমবার, ২৬ অক্টোবর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মুন্সীগঞ্জে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি ও কর্মসূচির ঘোষণা দেন নাহিদ ইসলাম। দেশের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দেশের কোথাও মানুষ নিরাপদ বোধ করছে না। তাঁর অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার দায়িত্ব স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হলেও তিনি সেই দায়িত্বের পরিবর্তে সংবিধান সংশোধন কমিটি নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। এ কারণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আর ওই পদে থাকা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন এনসিপির আহ্বায়ক।
একই সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি খাতের পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন নাহিদ ইসলাম। তাঁর বক্তব্য, জ্বালানি খাতে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তার দায় এড়াতে পারেন না জ্বালানিমন্ত্রী। এ পরিস্থিতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে এনসিপি। এই দাবিকে সামনে রেখে রাজধানীর শাহবাগে গণবিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে দলটি। তবে কর্মসূচির বিস্তারিত সময়সূচি সম্পর্কে দেওয়া তথ্যে কিছু উল্লেখ করা হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে ক্ষমতাসীন বিএনপির ভূমিকারও সমালোচনা করেন নাহিদ ইসলাম। তাঁর অভিযোগ, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার চেষ্টা করে। যদিও এটি এনসিপির আহ্বায়কের রাজনৈতিক বক্তব্য। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানান তিনি। নাহিদ ইসলাম বলেন, নির্বাচনে কোনো ধরনের কারসাজি বা পরিকল্পিতভাবে ফলাফল প্রভাবিত করার চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না। এ ধরনের পরিকল্পনা থাকলে বিএনপি পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করতে পারবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
সব মিলিয়ে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জ্বালানি খাতের সংকটকে কেন্দ্র করে সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক চাপ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে এনসিপি। এখন দেখার বিষয়, শাহবাগের ঘোষিত গণবিক্ষোভে কতটা সাড়া মেলে এবং দুই মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি নিয়ে সরকার কী অবস্থান জানায়।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন