ইসরায়েলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ নির্বাচনের বুথফেরত সমীক্ষায় উঠে এসেছে চমকপ্রদ চিত্র। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক সেনাপ্রধান গ্যাডি আইজেনকোট—কেউই এককভাবে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারছেন না। ফলে দেশটির পরবর্তী সরকার গঠনে শেষ পর্যন্ত কারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
বুধবার, ২৮ অক্টোবর প্রকাশিত বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের বিভিন্ন সম্প্রচারমাধ্যমের বুথফেরত সমীক্ষায় দুই প্রধান রাজনৈতিক জোটের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র উঠে এসেছে। দেশটির সংসদে মোট আসন ১২০টি। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসন। দুটি সম্প্রচারমাধ্যমের প্রাথমিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, গ্যাডি আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টি এবং তার পরিবর্তনপন্থী জোটের অন্য তিনটি দল মিলিয়ে পেতে পারে ৫১টি আসন। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি এবং তার অতি-ডানপন্থী ও ধর্মীয় রক্ষণশীল মিত্রদের আসনসংখ্যাও একই পর্যায়ে থাকতে পারে। তবে আরেকটি সম্প্রচারমাধ্যমের সমীক্ষায় নেতানিয়াহুর জোটকে সামান্য এগিয়ে দেখানো হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমীকরণ হয়ে উঠেছে আরব দলগুলোর আসন। দুটি আরব দল সম্মিলিতভাবে ১৮ থেকে ১৯টি আসন পেতে পারে বলে প্রাথমিক পূর্বাভাসে উঠে এসেছে। ফলে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন নিশ্চিত করতে তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। নির্বাচনে ভোট পড়ার হারও ছিল উল্লেখযোগ্য। ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার ভোট পড়েছে ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ, যা ১৯৯৯ সালের পর সর্বোচ্চ। তবে প্রায় ছয় লাখ অনাবাসিক ও ডাকযোগে দেওয়া ভোট গণনা শেষ না হওয়ায় চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
তেল আবিবে আইজেনকোটের দলের কার্যালয়ে প্রাথমিক সমীক্ষায় পরিবর্তনপন্থী জোটকে এগিয়ে থাকতে দেখে সমর্থকদের মধ্যে উদযাপন শুরু হয়। আইজেনকোট বলেন, জনগণের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে সব ইসরায়েলি নাগরিকের জন্য স্থিতিশীল সরকার গঠনের চেষ্টা করবেন তারা। তার রাজনৈতিক মিত্র ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়াইর লাপিদ দাবি করেন, নেতানিয়াহুর জোট বড় ধরনের নির্বাচনী ধাক্কার মুখে পড়েছে। তবে নেতানিয়াহুর দলও হাল ছাড়েনি। ভোটের ফলাফল নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই বুধবার ভোরে নেতানিয়াহু দাবি করেন, তার ডানপন্থী জোটের যথেষ্ট সমর্থন রয়েছে। তিনি একটি শক্তিশালী ডানপন্থী জাতীয় সরকার গঠনের আহ্বান জানান।
এদিকে আরব দলগুলোর অন্যতম নেতা মনসুর আব্বাস আশা প্রকাশ করেছেন, পরিবর্তনপন্থী জোটের সঙ্গে সমর্থন মিলিয়ে সংসদে ৬১টি আসনের সমীকরণ তৈরি করা সম্ভব হতে পারে। অন্যদিকে আরব রাজনৈতিক প্রতিনিধিরা স্পষ্ট করেছেন, সরকার গঠনের যেকোনো আলোচনায় তাদের উপেক্ষা করা যাবে না। নির্বাচনের দিন ভোটারদের মধ্যেও নেতানিয়াহু ও আইজেনকোটকে ঘিরে মতভেদ দেখা গেছে। কেউ নেতানিয়াহুর নেতৃত্বের সমালোচনা করে পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দিয়েছেন, আবার কেউ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলকে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে তার অভিজ্ঞতার ওপর আস্থা রেখেছেন।
সব মিলিয়ে ইসরায়েলের নির্বাচনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—কোন জোট শেষ পর্যন্ত সংসদের ৬১টি আসনের সমর্থন নিশ্চিত করতে পারবে? বুথফেরত সমীক্ষা চূড়ান্ত ফল নয়। বাকি ভোট গণনা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমর্থনের সমীকরণই নির্ধারণ করবে দেশটির পরবর্তী সরকার গঠনের পথ।
তথ্যসূত্র: বিবিসি।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন