ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনে প্রায় ৯০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ হলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারেনি কোনো পক্ষ। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট যেমন এককভাবে সরকার গঠনের মতো আসন পায়নি, তেমনি বিরোধী জোটও পৌঁছাতে পারেনি কাঙ্ক্ষিত সংখ্যায়। এর মধ্যেই আরব দলগুলোর আসনসংখ্যা রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছানোর আভাস নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করেছে।
আংশিক ফলাফল অনুযায়ী, ১২০ আসনের ইসরায়েলি পার্লামেন্টে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫৩টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন জোটের আসনসংখ্যা দাঁড়াতে পারে ৪৮টি। আরব দলগুলো সম্মিলিতভাবে ১৯টি আসন পেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় বুধবার রাত পর্যন্ত ৫০ লাখের বেশি ভোট গণনা সম্পন্ন হয়েছে। তবে কূটনীতিক, সেনাসদস্যসহ বিশেষ শ্রেণির ভোটারদের পাঁচ লাখের বেশি দ্বৈত খামের ব্যালট তখনো গণনা করা বাকি ছিল। এসব ভোটের ফলে চূড়ান্ত ফলাফলে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার মধ্যে আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশের কথা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলা এবং এরপর গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর এই নির্বাচনকে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছিল। দীর্ঘদিন ধরে দেশটির রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করা এই নেতার জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারায় সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে একক বৃহত্তম জোট হিসেবে নেতানিয়াহুর পক্ষ এখনো সরকার গঠনের সম্ভাবনা ধরে রেখেছে। আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশের পর ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করবেন। নতুন সরকার গঠনের পথ বের করার পাশাপাশি আরেকটি নির্বাচন এড়াতে দলগুলোকে সমঝোতায় পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে আরব দলগুলোর সাফল্যের পর নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি। দলটির দাবি, জালিয়াতি ও হুমকির মাধ্যমে ভোটের ফল প্রভাবিত করা হয়েছে। এ-সংক্রান্ত প্রমাণ পুলিশ ও অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেতের কাছে পাঠানো হচ্ছে বলেও জানিয়েছে দলটি। তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে প্রধান আরব জোট জয়েন্ট লিস্ট। তাদের বক্তব্য, যুদ্ধ ও উগ্র নীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ থেকেই ভোটাররা এই রায় দিয়েছেন। জোটটির নেতা ইউসুফ জাবারিন জানিয়েছেন, তাঁরা সরাসরি সরকারে যোগ না দিলেও নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে বিরোধীদের নেতৃত্বাধীন সরকারকে বাইরে থেকে সমর্থন দিতে প্রস্তুত।
সব মিলিয়ে, ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলের রাজনৈতিক পরিস্থিতির চূড়ান্ত চিত্র স্পষ্ট হচ্ছে না। বিশেষ ব্যালটের গণনা, দলগুলোর মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা এবং আরব জোটের অবস্থান—এই তিনটি বিষয়ই নির্ধারণ করতে পারে দেশটির পরবর্তী সরকার কোন পথে গঠিত হবে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন