রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় সংঘটিত বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন সম্পর্কিত সাতটি আলাদা মামলায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতা ও প্রাক্তন মন্ত্রী আমির হোসেন আমু, প্রাক্তন আইনমন্ত্রী আনিসুল হকসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন আদালতের মাধ্যমে গৃহীত হয়েছে।
আজ ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মিনহাজুর রহমান শুনানি শেষে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন। ওইদিন তাদের আদালতে হাজির করা হয়।
অন্যান্য অভিযুক্তরা হলেন— প্রাক্তন মন্ত্রী শাজাহান খান, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, প্রাক্তন প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, প্রাক্তন সংসদ সদস্য কাজী মনিরুল ইসলাম মনু।
এর মধ্যে আনিসুল হক তিনটি মামলায়, আমু, ইনু, মেনন ও পলক দুটি মামলায়, মনিরুল ইসলাম মনু তিনটি মামলায় এবং শাজাহান খান একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এই মামলাগুলো বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময়কার সহিংসতা, হত্যাকাণ্ড ও হত্যাচেষ্টা সম্পর্কিত।
অন্যদিকে, আলোচিত শেখ মেহেদী হাসান জুনায়েদ (মোস্তাকীন) হত্যাকাণ্ডে প্রাক্তন স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলমের দুই দিনের পুলিশি হেফাজত মঞ্জুর করেছেন আদালত।
গত ১২ এপ্রিল মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক তাপসচন্দ্র পন্ডিত তার পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী এবং আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখী শুনানিতে অংশ নেন। অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি প্রয়োজনে কারাগারের অভ্যন্তরে জিজ্ঞাসাবাদের অনুরোধ জানান। তবে শুনানি শেষে আদালত দুই দিনের পুলিশি হেফাজত মঞ্জুর করেন।
মামলার অভিযোগ অনুসারে, গত ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’-এর সময় শেখ মেহেদী হাসান জুনায়েদ একটি বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন। মিছিলটি শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউট এলাকায় পৌঁছালে অভিযুক্তরা ছাত্রজনতার ওপর আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলে গুলিবিদ্ধ হয়ে জুনায়েদ নিহত হন। পরে মিটফোর্ড হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় ৫ সেপ্টেম্বর বংশাল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
স্টাফ রির্পোটার
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন