ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের মধ্যে যুদ্ধবিরতির সময়সীমা প্রায় শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয় দফার বৈঠক ভেস্তে গেলেও আকস্মিকভাবে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান নতুন কোনো চুক্তির প্রস্তাব না দেওয়া পর্যন্ত সামরিক হামলা স্থগিত থাকবে। তবে একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি ও ইরানের সব বন্দরে নৌ-অবরোধ আগের মতোই বহাল থাকবে বলে তিনি স্পষ্ট করেন। এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ আট ব্যক্তি, চারটি সংস্থা এবং দুটি বিমানের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা জারি করে, যাদের মধ্যে অনেকে তুরস্ক, ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থান করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ালেও যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি এখনও অস্থিতিশীল রয়েছে। ইরান এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, আলোচনায় ফিরতে হলে আগে নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করতে হবে। প্রথম দফার যুদ্ধবিরতি ৮ এপ্রিল ঘোষণা করা হয় এবং দুই সপ্তাহের জন্য সাময়িক শান্তি বজায় রাখার কথা বলা হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই উত্তেজনা নতুন করে বাড়ে। পরবর্তী শান্তি বৈঠকও ব্যর্থ হয়, যেখানে প্রায় ২১ ঘণ্টা আলোচনা হলেও কোনো সমঝোতা হয়নি।
এরপর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন বন্দরে অবরোধ আরোপ করে এবং একটি জাহাজ জব্দ করে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় হরমুজ প্রণালিতে কয়েকটি জাহাজে অভিযান চালিয়েছে বলেও দাবি করেছে। এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আলোচনার সম্ভাবনা এখনো উন্মুক্ত থাকলেও তা নির্ভর করছে জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর।
ট্রাম্প প্রশাসন আবারও জানিয়েছে, ৩৬ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পাকিস্তানে দ্বিতীয় দফা বৈঠক হতে পারে বলে সম্ভাবনা রয়েছে, যদিও ইরান এখনো এতে সম্মত হয়নি। সব মিলিয়ে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা থাকলেও অবরোধ, নিষেধাজ্ঞা ও পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংকটের সমাধান এখনও অনিশ্চিত।
সূত্র: বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন