ঢাকা | |
সংবাদ শিরোনাম :

যেভাবে উৎপাদিত হয় পারমাণবিক বিদ্যুৎ এবং কেন এটি ভবিষ্যতের জ্বালানি

জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশ্ব যখন কার্বনমুক্ত জ্বালানির সন্ধানে, তখন পারমাণবিক শক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হিসেবে সামনে এসেছে।
  • আপলোড সময় : ২৮ এপ্রিল ২০২৬, দুপুর ২:৫৭ সময়
  • আপডেট সময় : ২৮ এপ্রিল ২০২৬, দুপুর ২:৫৭ সময়
যেভাবে উৎপাদিত হয় পারমাণবিক বিদ্যুৎ এবং কেন এটি ভবিষ্যতের জ্বালানি

জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশ্ব যখন কার্বনমুক্ত জ্বালানির সন্ধানে, তখন পারমাণবিক শক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হিসেবে সামনে এসেছে। তবে এই শক্তি কীভাবে বিদ্যুতে রূপান্তরিত হয়—তা নিয়ে অনেকের মধ্যেই কৌতূহল রয়েছে। পারমাণবিক শক্তি কী? পারমাণবিক শক্তি হলো পরমাণুর কেন্দ্র বা নিউক্লিয়াস থেকে নির্গত শক্তি। এটি মূলত দুইভাবে উৎপন্ন হয়—ফিশন (নিউক্লিয়াস ভাঙা) এবং ফিউশন (নিউক্লিয়াস যুক্ত হওয়া)। বর্তমানে বিশ্বের বেশিরভাগ বিদ্যুৎকেন্দ্রে ফিশন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।


ফিশন প্রক্রিয়া কীভাবে কাজ করে?

E=mc2E=mc^2E=mc2


ফিশন প্রক্রিয়ায় একটি ভারী পরমাণু ভেঙে ছোট ছোট অংশে বিভক্ত হয় এবং বিপুল শক্তি উৎপন্ন করে। উদাহরণ হিসেবে, ইউরেনিয়াম-২৩৫-এর নিউক্লিয়াসে একটি নিউট্রন আঘাত করলে সেটি ভেঙে গিয়ে নতুন নিউক্লিয়াস তৈরি করে এবং অতিরিক্ত নিউট্রন ছড়িয়ে দেয়। এভাবে একটি চেইন বিক্রিয়া তৈরি হয়, যা থেকে তাপ উৎপন্ন হয়।


কীভাবে বিদ্যুৎ তৈরি হয়?

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে একটি রিঅ্যাক্টরের ভেতরে এই ফিশন প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। উৎপন্ন তাপ দিয়ে পানি বাষ্পে রূপান্তরিত হয়। সেই বাষ্প টারবাইন ঘোরায়, আর টারবাইন চালায় জেনারেটর—এভাবেই উৎপন্ন হয় বিদ্যুৎ। এটি অনেকটা কয়লা বা গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো, তবে এখানে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয় পারমাণবিক উপাদান।


ইউরেনিয়াম ও জ্বালানি চক্র—

ইউরেনিয়াম একটি প্রাকৃতিক ধাতু, যার প্রধান আইসোটোপ ইউরেনিয়াম-২৩৮ ও ইউরেনিয়াম-২৩৫। এর মধ্যে ইউরেনিয়াম-২৩৫ দিয়েই শক্তি উৎপাদন সম্ভব। তবে এর পরিমাণ কম হওয়ায় ‘সমৃদ্ধকরণ’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এর ঘনত্ব বাড়ানো হয়। ব্যবহারের পরও এই জ্বালানি তেজস্ক্রিয় থাকে, তাই নিরাপদভাবে সংরক্ষণ বা পুনর্ব্যবহার করা হয়। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে কিছু তেজস্ক্রিয় বর্জ্য তৈরি হলেও তা নিয়ন্ত্রিতভাবে সংরক্ষণ করা হয়।


ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা—

নতুন প্রজন্মের উন্নত রিঅ্যাক্টর প্রযুক্তি আরও নিরাপদ এবং কম বর্জ্য উৎপন্ন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০৩০ সালের পর এসব প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়বে।


জলবায়ু পরিবর্তনে ভূমিকা—

পারমাণবিক শক্তি একটি স্বল্প-কার্বন নির্গমনকারী জ্বালানি উৎস। কয়লা বা গ্যাসের মতো এতে প্রায় কোনো কার্বন ডাই-অক্সাইড তৈরি হয় না। ফলে এটি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।


সূত্র: আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ওয়াসিম-বোল্টের রেকর্ড স্পর্শ করলেন মোস্তাফিজ

ওয়াসিম-বোল্টের রেকর্ড স্পর্শ করলেন মোস্তাফিজ