টানা দুই মাসের যুদ্ধ ও একের পর এক হামলা সত্ত্বেও ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতায় বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি বলে জানিয়েছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। সাম্প্রতিক মূল্যায়নে দেখা গেছে, হামলায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ক্ষতি সীমিত এবং তাদের সক্ষমতা প্রায় আগের অবস্থাতেই রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান চাইলে এখনো একটি পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে প্রায় ৯ মাস থেকে এক বছর সময় নিতে পারে, যা গত বছরের হিসাবের সঙ্গে প্রায় সামঞ্জস্যপূর্ণ। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে একাধিক হামলা চালিয়েছে, তবুও ইরানের মূল পারমাণবিক উপাদান, বিশেষ করে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বেশিরভাগই অক্ষত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে, এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হয়েছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইরানের কাছে প্রায় ৪৪০ কেজি ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা আরও পরিশোধন করলে একাধিক পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য যথেষ্ট হতে পারে। তবে এই মজুতের সুনির্দিষ্ট অবস্থান এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, শুধু স্থাপনায় হামলা চালিয়ে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি থামানো সম্ভব নয়। এ জন্য অবশিষ্ট ইউরেনিয়াম ধ্বংস বা সরিয়ে নেওয়া জরুরি। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র এখন কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
সাবেক গোয়েন্দা বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান তাদের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো মাটির গভীরে সুরক্ষিতভাবে স্থাপন করেছে, যা সাধারণ হামলায় ধ্বংস করা কঠিন। ফলে পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভবিষ্যতে আরও ঝুঁকিপূর্ণ সামরিক পদক্ষেপ বিবেচনায় আসতে পারে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, চলমান উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এখনো বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে রয়েছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন