যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমারের ওপর পদত্যাগের চাপ ক্রমেই বাড়ছে। সোমবার (১১ মে) একদিনেই চারজন সংসদীয় সচিব পদত্যাগ করেন এবং লেবার পার্টির ৭০ জনেরও বেশি সংসদ সদস্য প্রকাশ্যে তার পদত্যাগ দাবি করেন। গত সপ্তাহের স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির বড় ধরনের পরাজয়ের পর থেকেই দলের ভেতরে অস্থিরতা শুরু হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে লন্ডনে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে ভাষণ দিলেও তা ক্ষোভ কমাতে ব্যর্থ হন স্টারমার।
দলীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, অনেক সংসদ সদস্য মনে করছেন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে স্টারমার তার রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ও নেতৃত্বের কর্তৃত্ব হারিয়েছেন। এমনকি ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনে তার নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। একই সঙ্গে সরকারের শীর্ষ পর্যায়েও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাবানা মাহমুদসহ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগের একটি সময়সীমা নির্ধারণের পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপপ্রধানমন্ত্রীও ধাপে ধাপে ক্ষমতা হস্তান্তরের রোডম্যাপ তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে চাপের মধ্যেও কেয়ার স্টারমার স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তিনি এখনই পদত্যাগ করবেন না। তিনি দাবি করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে নেতৃত্ব পরিবর্তন হলে দেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরি হবে। বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে স্থিতিশীল সরকার প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, তিনি নিজের নেতৃত্ব আরও শক্তিশালী করে তুলবেন এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন।
তবে দলীয় ভেতরের চাপ থামেনি। অনেক কনিষ্ঠ এমপি ইতোমধ্যেই আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের দাবি তুলেছেন। অন্যদিকে তার ঘনিষ্ঠ কিছু মিত্র ছাড়া দলে প্রকাশ্য সমর্থনও কমে এসেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ এই বিভাজন কেয়ার স্টারমারের নেতৃত্বকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
সূত্র: রয়টার্স
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন