বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও চীনকে সংযুক্ত করে একটি অর্থনৈতিক করিডোর গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছে বেইজিং। দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকে এই প্রস্তাব উঠে আসে, যা আঞ্চলিক বাণিজ্য, যোগাযোগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বৈঠক-পরবর্তী সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র জানান, আলোচনায় যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক সংযোগ জোরদারের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক করিডোরের মাধ্যমে বাণিজ্যিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ, পণ্য পরিবহন সহজীকরণ এবং বহুমুখী যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
আলোচনায় দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরগুলোর আধুনিকায়ন নিয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। চীন চট্টগ্রাম বন্দরকে আরও আধুনিক ও কার্যকর আঞ্চলিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সেবার মান উন্নয়নে সহযোগিতার কথাও জানিয়েছে দেশটি। দুই দেশের মধ্যে শিক্ষা, সংস্কৃতি, প্রযুক্তি এবং দক্ষ জনশক্তি উন্নয়নেও সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষায় অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং ভাষা শিক্ষার ক্ষেত্রে সহায়তা দেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে চীন।
স্বাস্থ্যখাতেও সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মুক্ত হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি, বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপন এবং উন্নত চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে বেইজিং। পাশাপাশি বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য চিকিৎসা-সংক্রান্ত ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়েও ইতিবাচক অবস্থান জানিয়েছে তারা। বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও আলোচনা হয়। নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে চীন।
এ ছাড়া পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যে নিয়মিত সংলাপ চালুর বিষয়ে দুই পক্ষ একমত হয়েছে। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে আরও কাঠামোগত সহযোগিতার পথ তৈরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন অর্থনৈতিক জোটে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততার আগ্রহকেও ইতিবাচকভাবে দেখছে চীন। বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন