হরমুজ প্রণালিতে একটি পণ্যবাহী জাহাজে ড্রোন হামলার ঘটনায় ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এই ঘটনাকে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প দাবি করেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী একটি বড় বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে একাধিক আত্মঘাতী ড্রোন ছোড়া হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, একটি ড্রোন জাহাজে আঘাত হানলেও অন্যগুলো প্রতিহত করা হয়েছে। তবে তিনি হামলার সময়, জাহাজের পরিচয় বা ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি।
মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তাও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন এই ঘটনার জন্য তেহরানকেই দায়ী করছে। যদিও ইরান এখন পর্যন্ত এ অভিযোগের বিষয়ে কোনো দায় স্বীকার করেনি। ঘটনার পর পারস্য উপসাগর এলাকায় নিরাপত্তা উদ্বেগ আরও বেড়েছে। সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও উদ্ধার কার্যক্রমেও এর প্রভাব পড়েছে বলে জানা গেছে। ওই অঞ্চলে চলমান কিছু আন্তর্জাতিক উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য পর্যবেক্ষণ সংস্থা জানিয়েছে, একটি বাণিজ্যিক জাহাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশে অজ্ঞাত কোনো বস্তু আঘাত করেছে, যার ফলে জাহাজটির কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে জাহাজটি সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়েনি বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। অন্যদিকে ইরানের সমুদ্রপথ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে জানিয়েছে, নির্ধারিত নৌপথের বাইরে চলাচলকারী জাহাজগুলোর নিরাপত্তার দায় তারা নেবে না। অনুমোদিত রুট অনুসরণ না করলে সম্ভাব্য ঝুঁকি ও ক্ষতির দায় সংশ্লিষ্ট জাহাজ মালিক ও পরিচালনাকারীদের ওপর বর্তাবে বলেও জানানো হয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন এই উত্তেজনা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি আরও জটিল হলে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহেও প্রভাব পড়তে পারে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন