আর্জেন্টিনা–ব্রাজিল মানেই ফুটবলে চরম উত্তেজনা, আর সেই উত্তেজনার ইতিহাসে সবচেয়ে বিতর্কিত ঘটনাগুলোর একটি ঘটেছিল ১৯৯০ বিশ্বকাপে। ইতালিতে অনুষ্ঠিত সেই আসরের রাউন্ড অব সিক্সটিনে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মুখোমুখি হয়, যেখানে জন্ম নেয় বহুল আলোচিত ‘হলি ওয়াটার’ কাণ্ড। ম্যাচ ঘিরে অভিযোগ ওঠে, ব্রাজিলের এক খেলোয়াড়কে আর্জেন্টিনার ফিজিওর দেওয়া পানি পান করানোর পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে বিষয়টি ঘিরে শুরু হয় তুমুল বিতর্ক। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয় তুরিনে, ১০ জুন ১৯৯০ সালে।
সেই ম্যাচে শুরু থেকেই আধিপত্য দেখায় ব্রাজিল। দুঙ্গা ও অ্যালেমাওর নিয়ন্ত্রণে আর্জেন্টিনা চাপে থাকলেও গোলের দেখা মিলছিল না। আর্জেন্টিনার ভরসা ছিলেন ডিয়েগো ম্যারাডোনা, কিন্তু ব্রাজিলের রক্ষণ তাকে কার্যত আটকে রাখে। ম্যাচের ৮১ মিনিটে ম্যারাডোনার পাস থেকে ক্লদিও ক্যানিজিয়া গোল করলে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। এরপর ৮৫ মিনিটে ব্রাজিল অধিনায়ক লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলে জয় পায় আর্জেন্টিনা, বিদায় নেয় ব্রাজিল।
তবে ম্যাচের পরপরই বিতর্ক দানা বাঁধে। ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার ব্রাংকো অভিযোগ করেন, দ্বিতীয়ার্ধে পানিবিরতির সময় আর্জেন্টিনার ফিজিওর দেওয়া পানি পান করার পর তিনি অস্বস্তি অনুভব করেন এবং তার পারফরম্যান্সে প্রভাব পড়ে। আর্জেন্টিনা শিবির শুরু থেকেই অভিযোগ অস্বীকার করে। তবে ২০০৫ সালে ডিয়েগো ম্যারাডোনা এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, ব্রাংকোকে দেওয়া পানিতে ঘুমের ওষুধ মেশানো হয়েছিল। এই মন্তব্যের পর বিতর্ক নতুন করে তীব্র হয়।
তৎকালীন ফুটবল কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানালেও বিষয়টি আর এগোয়নি। আর্জেন্টিনার কোচ কার্লোস বিলার্দোও এসব অভিযোগ নাকচ করেন। অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট ফিজিওও ঘটনার কথা অস্বীকার করেন। তবে ব্রাজিলিয়ান তারকা বেবেতো দাবি করেন, ওই ফিজিও পরবর্তীতে তার কাছে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছিলেন। ব্রাজিলের পক্ষ থেকে এই ঘটনাকে ‘অস্পোর্টসম্যানশিপ আচরণ’ হিসেবে অভিহিত করে ফিফার কাছে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলা হয়। প্রায় তিন দশক পেরিয়ে গেলেও ১৯৯০ বিশ্বকাপের এই ঘটনা এখনো আর্জেন্টিনা–ব্রাজিল দ্ব
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন