যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে প্রেসিডেন্টের প্রশাসনিক ক্ষমতা ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা—দুই বিষয়েই পৃথক অবস্থান স্পষ্ট করেছে। আদালত জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট তার অধীনস্থ নির্বাহী কর্মকর্তাদের অপসারণ করতে পারেন। তবে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিনির্ধারণী কাঠামোর স্বাধীনতা অবশ্যই সংরক্ষিত থাকতে হবে।
সাম্প্রতিক রায়ে আদালতের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিরা মত দিয়েছেন যে, নির্বাহী বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়োগ ও অপসারণের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের সাংবিধানিক ক্ষমতা রয়েছে। ফলে একজন ফেডারেল কমিশনারের করা আপিল খারিজ করে আগের সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই রায় প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠন এবং গুরুত্বপূর্ণ পদে নতুন নেতৃত্ব আনার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে। রাজনৈতিক মহলেও সিদ্ধান্তটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তবে একই সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক গভর্নরকে অপসারণ সংক্রান্ত পৃথক মামলায় আদালত ভিন্ন বার্তা দিয়েছে। আদালত বলেছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনো গভর্নরকে অপসারণ করতে হলে যথাযথ কারণ এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। শুধু রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক বিবেচনায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। রায়ে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনীতির মুদ্রানীতি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা অক্ষুণ্ন রাখা অত্যন্ত জরুরি। সেই কারণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে কোনো চূড়ান্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা সমীচীন হবে না।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকেও এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, আদালতের এই অবস্থান অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার নীতিকে আরও সুদৃঢ় করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আদালতের সর্বশেষ রায় একদিকে প্রেসিডেন্টের প্রশাসনিক কর্তৃত্বকে স্বীকৃতি দিয়েছে, অন্যদিকে দেশের আর্থিক ব্যবস্থার স্থিতিশীলতার স্বার্থে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতার গুরুত্বও পুনর্ব্যক্ত করেছে।
সূত্র: এএফপি।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন