বাংলাদেশের পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক কৌশল এবং নতুন সরকারের বৈদেশিক নীতির দিকনির্দেশনা জানতে চলতি জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহে ঢাকা সফরে আসছেন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এটি হবে নতুন সরকারের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওই বিশেষ দূতের প্রথম বাংলাদেশ সফর। বিশ্লেষকদের মতে, নিয়মিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের বাইরে বিশেষ দূত পাঠানো সাধারণত কৌশলগত গুরুত্ব বহন করে। তাই এই সফরের অন্যতম লক্ষ্য হতে পারে বাংলাদেশের বর্তমান পররাষ্ট্রনীতি, আঞ্চলিক অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক অগ্রাধিকার সম্পর্কে সরাসরি ধারণা নেওয়া। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্ধারিত সফরসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিশেষ দূতের ঢাকা সফরের সময়সূচি চূড়ান্ত করা হচ্ছে। ফলে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের পর এই সফর আরও বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। ওই সফরে বন্দর উন্নয়ন, নদী ব্যবস্থাপনা, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং অর্থনৈতিক বিনিয়োগসহ একাধিক বিষয়ে সমঝোতা হয়। এরপর তুরস্ক, রাশিয়া, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব এবং ইউরোপীয় বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক যোগাযোগও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, আসন্ন বৈঠকে চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের বর্তমান সম্পর্ক, ভারতের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক অবস্থান, পাকিস্তান প্রসঙ্গ, রোহিঙ্গা সংকট এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে। একই সঙ্গে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার সামগ্রিক নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার বিষয়ও আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা ও ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের স্বাধীন, ভারসাম্যপূর্ণ ও বহুমুখী পররাষ্ট্রনীতি আন্তর্জাতিক মহলের বিশেষ নজর কেড়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে এই সফর দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে।
সূত্র: দ্য টাইমস অব বাংলাদেশ।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন