পরকালের চিরস্থায়ী সফলতা অর্জনের জন্য একজন মুমিনের জীবনে ঈমান, নেক আমল এবং গুনাহ থেকে বিরত থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামে এমন কিছু সৌভাগ্যবান মানুষের কথা উল্লেখ রয়েছে, যারা মহান আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহে কোনো হিসাব-নিকাশ ছাড়াই জান্নাতে প্রবেশ করবেন। সহিহ হাদিসে তাদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও মর্যাদার কথা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। সহিহ বুখারির ৬৫৪১ নম্বর হাদিসে হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত এক দীর্ঘ হাদিসে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশকারীদের কয়েকটি বিশেষ গুণের কথা তুলে ধরেছেন।
হাদিস অনুযায়ী, তারা এমন মানুষ, যারা সর্বাবস্থায় একমাত্র আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা করেন। রোগব্যাধি বা বিপদের সময় তারা শিরকপূর্ণ কিংবা শরিয়তবিরোধী ঝাড়ফুঁক বা কুসংস্কারের আশ্রয় নেন না। একই সঙ্গে তারা কোনো দিন, সময়, পাখি বা বস্তুকে অশুভ মনে করেন না; বরং সবকিছুতেই আল্লাহর ফয়সালার ওপর সন্তুষ্ট থাকেন। এ ছাড়া তাদের জীবনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো—সব পরিস্থিতিতে আল্লাহর ওপর অবিচল তাওয়াক্কুল বা নির্ভরশীলতা।
অন্যদিকে সহিহ বুখারির ৩২৪৫ নম্বর হাদিসে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, জান্নাতে প্রথম প্রবেশকারীদের চেহারা হবে পূর্ণিমার চাঁদের মতো উজ্জ্বল। তাদের দেহ হবে সম্পূর্ণ পবিত্র ও রোগমুক্ত। সেখানে তাদের কোনো কষ্ট, ক্লান্তি বা অপবিত্রতার প্রয়োজন হবে না। তাদের ঘাম থেকেও কস্তুরির মতো সুগন্ধ বের হবে। হাদিসে আরও এসেছে, জান্নাতে তাদের পানাহারের পাত্র হবে সোনার তৈরি এবং চিরুনি হবে সোনা ও রুপার। তাদের অন্তর হবে হিংসা-বিদ্বেষমুক্ত। সবাই পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা ও সম্প্রীতিতে জীবনযাপন করবে এবং সকাল-সন্ধ্যা মহান আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করবে।
ইসলামী শিক্ষায় বলা হয়েছে, বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশের সৌভাগ্য অর্জনের জন্য একজন মুমিনের উচিত আল্লাহর ওপর দৃঢ় তাওয়াক্কুল রাখা, শিরক ও কুসংস্কার থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকা, ঈমান ও তাকওয়ার সঙ্গে নেক আমলের জীবন গড়ে তোলা এবং সবসময় আল্লাহর কাছে এই মহান নিয়ামত লাভের জন্য দোয়া করা। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশকারী সৌভাগ্যবান বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আমিন।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন