মাদক পাচারের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে দায়ের হওয়া মামলায় ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিচার দুই হাজার সাতাশ সালের জুন মাসে শুরু করার প্রস্তাব দিয়েছে মামলার উভয় পক্ষ। এ সংক্রান্ত একটি যৌথ আবেদন মঙ্গলবার আদালতে জমা দিয়েছেন মাদুরোর আইনজীবী এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের কৌঁসুলিরা। আদালতে দাখিল করা নথিতে মামলার পরবর্তী আইনি কার্যক্রমের সম্ভাব্য সময়সূচিও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বিচার আনুষ্ঠানিকভাবে কবে শুরু হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতের বিচারক অ্যালভিন হেলারস্টেইন।
আগামী বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় দুপুর বারোটায় মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। শুনানির আগেই উভয় পক্ষ আদালতের কাছে প্রস্তাবিত সময়সূচি জমা দেয়। যৌথ আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে এই সময়সূচিতে পরিবর্তনের আবেদন করা যেতে পারে। একই সঙ্গে আগামী দুই সেপ্টেম্বরের মধ্যে মামলাটি খারিজের আবেদন করার সুযোগ পাবেন মাদুরোর আইনজীবীরা।
আইনজীবীদের সম্ভাব্য যুক্তি হলো, নিকোলাস মাদুরো একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাই আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় তিনি বিচার থেকে বিশেষ আইনি সুরক্ষা পাওয়ার অধিকারী। সেই ভিত্তিতেই মামলাটি বাতিলের আবেদন জানানো হতে পারে। প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, গোপন নথি পর্যালোচনার পর আগামী এগারো জানুয়ারির মধ্যে দ্বিতীয় দফার আইনি আবেদনও আদালতে জমা দেওয়া হবে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস থেকে নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে যায়। পরে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের আনুষ্ঠানিক বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হয়। আদালতে হাজির হয়ে দুজনই নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। দুই হাজার তেরো সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা সমাজতান্ত্রিক নেতা নিকোলাস মাদুরোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক টানাপোড়েন রয়েছে। চলতি বছরের পাঁচ জানুয়ারি আদালতে প্রথম উপস্থিত হয়ে তিনি নিজেকে ‘যুদ্ধবন্দী’ বলে দাবি করেছিলেন।
মাদুরোর অভিযোগ, ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলসম্পদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার উদ্দেশ্যেই যুক্তরাষ্ট্র তাকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে। অন্যদিকে ওয়াশিংটনের দাবি, দুর্নীতি, অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা এবং বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে দেশকে সংকটে ফেলেছেন তিনি। দুই হাজার উনিশ সাল থেকেই যুক্তরাষ্ট্র তাকে ভেনেজুয়েলার বৈধ প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। বর্তমানে নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের একটি ফেডারেল কারাগারে অবস্থান করছেন। সেখান থেকেই তারা মামলার আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
সূত্র: রয়টার্স
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন