ভারতের সাম্প্রতিক নিয়োগ পরীক্ষা-সংক্রান্ত আন্দোলন ঘিরে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আন্দোলনের সময় নিজের বিরুদ্ধে কটূক্তি করা শিক্ষার্থীদের ক্ষমা করে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, তাদের শাস্তি নয়, বরং সঠিক পথ দেখানোই প্রয়োজন। ভিডিও বার্তায় মোদি আন্দোলনকারীদের ‘পথভ্রষ্ট’ ও ‘বিভ্রান্ত সন্তান’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সমাজের দায়িত্ব তাদের সংশোধনের সুযোগ করে দেওয়া। তিনি দাবি করেন, আন্দোলনের সময় তাকে এবং তার প্রয়াত মাকে উদ্দেশ্য করে অশালীন ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। তবুও তিনি প্রতিশোধ নয়, ক্ষমার পথকেই বেছে নিয়েছেন।
ঘটনার সূত্রপাত একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে। পরীক্ষা বাতিল হওয়ায় লাখো পরীক্ষার্থীকে পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। এরপর পরীক্ষাব্যবস্থার সংস্কার ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে বিক্ষোভ শুরু হয়, যা পরে ব্যাপক আন্দোলনে রূপ নেয়। আন্দোলনের সময় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভকারীরা নিজেদের ‘ককরোচ’ নামে পরিচিত করতে শুরু করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যঙ্গ, প্রতিবাদ ও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে তারা সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন।
শেষ পর্যন্ত সরকার আন্দোলনকারীদের কয়েকটি দাবি মেনে নেয় এবং পরীক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়। তবে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বিভিন্ন রাজ্যে এখনও অনেক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা চলছে এবং গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। এদিকে বিরোধী দল ও আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেছেন, আন্দোলনের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে। পাশাপাশি নারী আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ, হুমকি ও হয়রানির ঘটনাও সামনে এসেছে।
সরকার ইতোমধ্যে পরীক্ষাব্যবস্থা আরও কঠোর করতে নতুন আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রস্তাবিত আইনে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের জন্য কঠোর শাস্তি ও বেশি জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে আদালতের নির্দেশে বেআইনি অনলাইন কনটেন্ট দ্রুত অপসারণের নতুন নিয়মও কার্যকর করা হয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন